নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ফের ধস নামল চন্দননগরের রাস্তায়। বুধবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে সুরপাড়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুটপাত লাগোয়া রাস্তার একটি অংশে ধস নেমেছে। সেখানে বিরাট গহ্বর তৈরি হয়েছে। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। যদিও চন্দননগর পুরসভা প্রাথমিক মেরামতির কাজ করেছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, চন্দননগরের রাস্তায় ধস নামার ঘটনা এই প্রথম নয়। গত দু’বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে চন্দননগরের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে বেশোহাটার রাস্তায় বিরাট ধস নামার ফলে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিখ্যাত ভাসান বন্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
বরাবরের মতো এবারও সুরপাড়ার রাস্তায় ধস নামার জন্য ফরাসি আমলের ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে চন্দননগর পুরসভা। অতীতে ওই নিকাশি ব্যবস্থার নকশা তৈরির কথা বলেছিল পুরসভা। সেই কাজ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিন মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, ইতিমধ্যেই ওই রাস্তায় ধস নিয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, ফরাসি আমলের ভূগর্ভস্থ নিকাশি ব্যবস্থার কোনও ম্যাপ নেই। ফলে, রাস্তায় ধস নামলেও চট করে তা সারানো যায় না। তাতে নিকাশি ব্যবস্থার ক্ষতি হতে পারে। নিকাশি ব্যবস্থার একটি মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হলেও সেই কাজ খুব বেশি এগয়নি বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে চন্দননগরের রাস্তায় ধস সামলানোর কোনও স্থায়ী সমাধান সূত্র এখনই মিলবে না, তা পুরকর্তাদের কথাতেই স্পষ্ট।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতেও রাস্তায় ধস নেমেছে চন্দননগর শহরে। গত দু’বছরে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুতের লাইন, জলের পাইপলাইন, ফোনের কেবল বসানো হয়েছে। কিছু এলাকায় মাটির তলা দিয়ে গ্যাসের পাইপলাইনও গিয়েছে। এসবের জেরে রাস্তার সহন ক্ষমতা কমেছে। তার উপরে ভূগর্ভস্থ প্রাচীন নিকাশি ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় ধসের সমস্যা আরও প্রবল আকার নিয়েছে। সম্প্রতি চন্দননগরের বিখ্যাত স্ট্র্যান্ড রোড, পালপাড়া, বেশোহাটা সহ একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে। যা বাসিন্দাদের উদ্বেগকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র