নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলাজুড়ে অবৈধ মিনি পেট্রল পাম্পের কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে অভিযোগ। এনিয়ে জেলা পুলিস ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে লাগাতার অভিযান শুরু হয়েছে। মূলত, জেলার ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে পৃথক অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের তরফে দু’টি মিনি পেট্রল পাম্প সিল করা হয়েছে। এবার আসরে নামল দুবরাজপুর থানার পুলিস। সম্প্রতি দুবরাজপুর থানার তরফে একটি অবৈধ পেট্রল পাম্প সিল করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেপ্তারি নেই। অন্যদিকে, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও বিভিন্ন থানা নজরদারি শুরু করতেই একাধিক অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধ কারবার গুটিয়ে গা ঢাকা দিতে শুরু করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে জেলার চারটি মিনি পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পুলিস কর্তাদের একাংশের অনুমান, গ্রেপ্তারি এড়াতে ব্যবসায়ীরা অবৈধ কারবারে ইতি টেনেছে। তবে জেলার আর কোথাও এই কারবার চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পুলিস ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ অভিযান জারি রেখেছে। সেই সঙ্গে অবৈধ কারবারে জড়িতদের খুঁজে বার করতেও তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, দুবরাজপুরে আরও একটি অবৈধ পেট্রল পাম্প সিল করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট তিনটি মিনি পেট্রল পাম্প সিল করা হয়েছে। এই অভিযান লাগাতার চলবে।
ঝাড়খণ্ড সহ অন্যান্য রাজ্য থেকে কম দামে পেট্রল কিনে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এই কারবারে মেতে উঠেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা জানতে পেরেছেন, মূলত ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকায় এই অবৈধ কারবার চলছে। অতিরিক্ত মুনাফার লোভে স্থানীয়দের একাংশই এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। উপযুক্ত পরিকাঠামো ছাড়াই ব্যাঙের ছাতার মতো পেট্রল পাম্প গজিয়ে উঠছে। ওইসব মিনি পাম্পে অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন থানা ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এখনও পর্যন্ত পুলিসের তরফে মোট তিনটি মিনি পেট্রল পাম্প সিল করা হয়েছে। তারমধ্য দু’টি দুবরাজপুরে ও একটি লোকপুর থানা এলাকার ঘটনা। পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত মূল মাথাদের খোঁজে তদন্ত চলছে। মিনি পেট্রল পাম্পের অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে জেলার দুবরাজপুরের কামালপুরে প্রথম অভিযান চলে। এরপরই পুলিস সোর্স কাজে লাগিয়ে জানতে পারে, সেখানে আরও মিনি পেট্রল পাম্প রয়েছে। দ্রুত সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। সেইসঙ্গে অভিযানও চলে। তবে দুবরাজপুর থানার পুলিস অবশ্য জালালপুরে একটি পাম্পের হদিশ পায়। দ্রুত ওই পাম্পটিকে সিল করা হয়েছে। যদিও ওই থানা এলাকায় থাকা আরও চারটি পাম্পের অস্থিত্ব নজরে আসেনি। তবে নির্দিষ্ট এলাকায় এক সময়ে মিনি পেট্রল পাম্প ছিল বলে একাধিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ঘটনায় পুলিস কর্তাদের দাবি, অভিযান শুরু হতেই অবৈধ কারবারিদের একটা অংশ ব্যবসা গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে জেলায় মিনি পেট্রল পাম্পের অবৈধ কারবারে ইতি পড়েছে তা অবশ্য বলা যায় না।