সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় শুক্রবার মুর্শিদাবাদ থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতের নাম মুর্শেদ শেখ। তার বাড়ি ভরতপুরের সুনিয়া গ্রামে। শুক্রবার ধৃতকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ওই ঘটনায় ধৃত ইব্রাহিম শেখকেও আদালতে তুলে এদিন পুলিস পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেয়। দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। মুর্শেদ ও নুরাই বোমার মশলা ইব্রাহিমকে সরবরাহ করেছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৪ জুলাই রাতে রাজুয়া গ্রামের বাসিন্দা তুফান শেখ বীরভূমের নানুরের কয়েকজন দুষ্কৃতীকে বোমা বাঁধার জন্য নিয়ে এসেছিল। পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ হয়। তাতে নানুরের যুবক বরকত কারিকরের মৃত্যু হয়। ঘটনায় জখম হয় তুফান। তাকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিসি হেফাজতে তার চিকিৎসা চলছে। ৬ জুলাই বাড়ির মালিকের ছেলে আবুতাহার শেখ, আবুল কায়েম শেখ সহ গ্রামের বাসিন্দা নজরুল মোল্লা, জুমাত শেখ ও কেতুগ্রামের মাসুন্দির দুষ্কৃতী জমির শেখকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। তারপর রাজুয়া গ্রামে তুফানের বন্ধু ইব্রাহিম শেখ, সফিক শেখ ও সফিক মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জমিরের মাধ্যমে নানুরের বরকতের সন্ধান পায় তুফান। বরকত টাকা দিলেই নিমেষে বোমা বাঁধতে পারত। ঘটনার সময় নজরুল ও জুমাত এলাকায় পাহারা দিচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বোমের মশলা সাপ্লাই করার অভিযোগে কান্দি এলাকার নুরাই শেখ নামে এক দুষ্কৃতীকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। পুলিস বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও মূল মাথাকে এখনও পর্যন্ত ধরতে পারেনি। প্রশ্ন উঠছে, কার নির্দেশে বোমা বাঁধা হচ্ছিল? তার তথ্য এখনও তদন্তকারীদের কাছে নেই। ঘটনার পিছনে কোনও প্রভাবশালী রয়েছে কি না পুলিস খতিয়ে দেখছে।