সংবাদদাতা, ঘাটাল: কয়েক মাস আগেই পাঁশকুড়ায় চুরির অপবাদ দেওয়ায় আত্মঘাতী হয়েছিল সপ্তম শ্রেণির এক বালক। সেই ঘটনা নড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাজ্যকে। এবার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে চোর অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ সামনে এল। এমনকী চুরির টাকা উদ্ধার করতে নাবালিকার বাড়িতে প্রায় পঞ্চাশ জন তল্লাশিও চালায়। যদিও কোনও টাকা মেলেনি। তবে তারপরেও থামেনি অপমান ও হেনস্তা। গোটা গ্রামের বিরোধিতার মুখে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছে মেয়েটি। তবে তার দিদিমার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে দাসপুর থানার জয়কৃষ্ণপুরে এক আঁকার মাস্টারের নগদ তিন হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে গোটা গ্রাম মেয়েটিকে হেনস্তা করতে শুরু করে। প্রত্যেক রবিবার জয়কৃষ্ণপুর বাজারের হনুমান মন্দিরের আন্ডার গ্রাউন্ডে ডেবরা থানার কাঁকদাড়ির এক শিক্ষক প্রায় ৩০-৩৫ জন ছাত্রছাত্রীকে আঁকা শেখাতে আসেন। রবিবারও তিনি ব্যাগ রেখে আঁকা শেখাচ্ছিলেন। ক্লাস শেষে তিনি দাবি করেন, ব্যাগ থেকে নগদ তিন হাজার টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ বালিতোড়া বসনবালা আদর্শ বিদ্যাপীঠের ওই ছাত্রীর দিকে। ওই নাবালিকা বছর তিনেক আগে মাকে হারিয়েছে। বাবা বিজয় বাগ রাজস্থানে সোনার কাজ করেন। দিদিমা কল্পনা দাসের কাছে থাকে ভাই-বোন। চুরির অপবাদ দিয়ে রবিবার বিকেলে প্রায় পঞ্চাশ জনকে নিয়ে ছাত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু কোনও টাকা মেলেনি। রাতে গ্রামে মিটিং করে শিক্ষকের উপস্থিতিতেই ফের ওই কিশোরীকে ডেকে জেরা করা হয়। ওই গ্রামের এক বাসিন্দা তারাপদ দাস ছাত্রীর বাড়িতে তল্লাশি করতে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা মেয়েটির উপর মানসিক অত্যাচার করিনি।
অভিযোগ, এরপর থেকেই শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। খাওয়া-ঘুম সবই বন্ধ করে দিয়েছে সে। সারাদিন শুধু কাঁদছে। ভিনরাজ্য থেকে তার বাবা ফোনে বলেন, এভাবে অপবাদ দিলে যে কোনও মুহূর্তে মেয়ে কোনও অঘটন ঘটাতে পারে। আতঙ্কে এদিন তাঁর পরিবার পুলিসের শরণাপন্ন হয়। নাবালিকার দিদিমা অঙ্কন শিক্ষক ও গ্রামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দাসপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগ পেয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।