নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: মাত্র দেড় মাসেই নিউটাউনে পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাতজন। জখমের সংখ্যা বহু। এমন উদ্বেগময় পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার, রবিবারের পর সোমবারও ফের দুর্ঘটনা নিউটাউনে। এবার দু’টি বাসের ধাক্কায় আহত হলেন একাধিক যাত্রী। তাঁদের মধ্যে দু’জনের চোট বেশি। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দু’টি বাসকেই আটক করেছে পুলিশ। যাত্রীদের অভিযোগ, দু’টি বাস রেষারেষি করেই চলছিল। তার জেরেই এই দুর্ঘটনা। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, রেষারেষির ঘটনা নয়। সামনে একটি বাইক এসে পড়ায় প্রথম বাসটি আচমকা ব্রেক কষলে পিছনে থাকা বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয় আগের বাসকে। তার জেরেই দুর্ঘটনা। তবে, বাসের গতি বেশি ছিল। দু’টি বাসই বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে অভিযোগ। তাই ‘র্যাশ ড্রাইভিং’য়ের মামলা রুজু করা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধাননগরের ডিসি ট্রাফিক মীত কুমার।
নিউটাউনে পরপর দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখ থেকে এখনও পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার সকালে নিউটাউনে বন্দের মোড়ের কাছে বিশ্ববাংলা সরণির উপর একটি দুর্ঘটনা ঘটে। একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা দিয়ে উলটে যায়। তাতে এক মহিলা সহ তিনজন জখম হন। রবিবার বিকালে ফের দুর্ঘটনা ঘটে নিউটাউনে। বলাকা আবাসনের কাছে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মেরে উলটে যায়। এই ঘটনাতেও তিনজন জখম হন। সোমবার ফের দুর্ঘটনা। এবার বাসের পিছনে বাসের ধাক্কা। নিউটাউনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিনই একাধিক বাস বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে। যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। কেউ হাত দেখালেই মাঝরাস্তায় আচমকা দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। কাউকে পরোয়া করে না। যে কোনওদিন বড়ো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভ থেকে নিউটাউন বিশ্ববাংলা গেটের দিকে যাচ্ছিল ডিএন-৪৭ এবং ২৬০ নম্বর রুটের দু’টি বাস। যাত্রীদের অভিযোগ, দু’টি বাসই নজরুল তীর্থের পর থেকে রেষারেষি করছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নিউটাউন মেলা গ্রাউন্ডের সামনে ডিএন-৪৭ রুটের বাসের সামনে একটি বাইক চলে আসে। বাসটি আচমকা ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ে। পিছনে দ্রুতগতিতে আসছিল ২৬০ নম্বর রুটের একটি বাস। সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আগের বাসের পিছনে ধাক্কা মারে। বেশ কয়েকজন যাত্রী জখম হন। হুমড়ি খেয়ে বাসের মধ্যেই আছড়ে পড়েন অনেকে। দুর্ঘটনার পর দু’টি বাসের চালক, কনডাক্টর ও খালাসি চম্পট দেয়। নিজস্ব চিত্র