Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাবলারিতে সিদ্ধেশ্বরী মাতার বাৎসরিক পুজো ও মেলা আজ

বাবলারিতে সিদ্ধেশ্বরী মাতার বাৎসরিক পুজো ও মেলা আজ
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: আজ, শুক্রবার নবদ্বীপের বাবলারিতে প্রাচীন শ্রীশ্রী সিদ্ধেশ্বরী মাতার বাৎসরিক পুজো ও মেলা রয়েছে। আষাঢ় নবমী উপলক্ষ্যে এই পুজো ও মেলায় নদীয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে বহু মানুষ আসেন। তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে লাইন দিয়ে সিদ্ধেশ্বরী মাতার পুজো দেন।

Advertisement

শুক্রবার সকাল ৬’টা থেকে দেবীর পুজো শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলবে। পুজো, ভোগ আরতির পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। সিদ্ধেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে শিব, রাধামাধব, গৌরাঙ্গদেব ও তুলসী মাতার পুজোও হয়। বাৎসরিক পুজোকে কেন্দ্র করে একদিনের মেলা বসে। মেলায় হরেকরকম পণ্যসামগ্রী নিয়ে দেড়শোর বেশি দোকান বসে। নাগরদোলা সহ নানা বিনোদনের সরঞ্জাম থাকে।
মন্দির কমিটির সদস্য কালীপদ রাহা, বলাই হাজরা, শীতল ঘোষ, হারু ঘোষরা বলেন, এখানে প্রায় ৫৫০বছর ধরে প্রাচীন ব্রহ্মশিলার মধ্যে দেবী বিরাজমান। সেইসঙ্গে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন। আগে এখানে সিদ্ধেশ্বরী মাতার কোনও মূর্তি ছিল না। ব্রহ্মশিলা ও ঘট স্থাপন করে পুজো হতো। পরবর্তী সময়ে পাঁচ পোয়া পাথর দিয়ে দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি পার্থসারথি গুঁই ও প্রবীণ সদস্য কিরীটী মহন্ত বলেন, এই মন্দির হেরিটেজ তালিকাভুক্ত। বাবলারি গ্রাম গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর প্রথমা স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়ার পিতা বল্লভাচার্যের স্মৃতিবিজড়িত। এই গ্রামেই লক্ষ্মীপ্রিয়াদেবী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মন্দির প্রাঙ্গণে সিদ্ধেশ্বর শিব, বৃন্দাবনের অনুকরণে তুলসীদেবীর প্রতিমা ও গৌরাঙ্গদেবের মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এখানে দেবীকে প্রতিদিন পাঁচবার ভোগ নিবেদন করা হয়। মন্দির কমিটির সদস্য গৌতম নন্দী ও অসিতকুমার দে বলেন, এই প্রাচীন মন্দিরে এবছর রথযাত্রার দিন থেকে জগন্নাথদেবের পুজো শুরু হয়েছে।
কথিত আছে, পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে ভাগীরথীর তীরে এক তান্ত্রিক ব্রহ্মশিলারূপী সিদ্ধেশ্বরী মাতাকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেসময় ভাগীরথী নদী নবদ্বীপের পশ্চিমদিকে বইত। বাবলারিতে নদীর ধারে নির্জন, গভীর জঙ্গলে একটি বুঁইচি গাছের নীচে ব্রহ্মশিলারূপী দেবীর অবস্থান ছিল। সেখানে দক্ষিণাকালীর মূর্তি স্থাপন করে ওই তান্ত্রিক তন্ত্রসাধনা করতেন। তিনি সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। সেসময় থেকে ব্রহ্মশিলারূপেই দেবীর পুজো হয়ে আসছিল। পরে ভক্তরা দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ