Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খড়্গপুরে মাওয়া ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

খড়্গপুরে মাওয়া ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০

রাজদীপ গোস্বামী, মেদিনীপুর: খড়্গপুর-২ ব্লকের মাওয়া ইশ্বরচন্দ্র উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দু’দিন ব্যাপী বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী উপলক্ষ্যে পড়ুয়াদের মধ্যে ছিল উৎসবের মেজাজ। ২৭মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিতি ছিলেন পিংলার বিধায়ক অজিত মাইতি সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। দু’দিন ধরে সঙ্গীত, আবৃত্তি, আঁকা, গল্প বলা, কুইজ সহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা সমবেত নৃত্য, নৃত্যনাট্য ও নাটক পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানের শেষদিন সন্ধ্যায় ‘বিজ্ঞান ও কুসংস্কার’ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে খেলাধুলো, পঞ্চম-দ্বাদশ শ্রেণি অবধি পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কারও দেওয়া হয়। বিধায়ক বলেন, স্কুলের পাশে সর্বদা থাকব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে ভালো লেগেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শম্ভুনাথ বিশাই বলেন, ২০১০সাল থেকে এখানে প্রধান শিক্ষকের পদে আছি। গত ১৫বছরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে মাটির বাড়ির বদলে পাকা স্কুলভবন গড়ে তোলা হয়েছে। স্কুলের উন্নতির জন্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৬সালে মাওয়া গ্রামের শিক্ষানুরাগী প্রয়াত নগেন্দ্রনাথ ঘোষ এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলার ব্যাপারে উদ্যোগী হন। নগেন্দ্রনাথবাবুর উদ্যোগে ও গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় বাঁশ, কাঠ ও খড় সংগ্রহ করে মাটির স্কুলভবন তৈরি হয়।
স্কুলের জন্য জমিদান করেন প্রয়াত ঈশ্বরচন্দ্র মাইতি। তাঁর নামানুসারেই স্কুলের নামকরণ হয়। এছাড়াও আশুতোষ ঘোষ, অমূল্যচরণ পড়্যা, যজ্ঞেশ্বর পড়্যা, কালীপদ মহাপাত্র ও পলমল পরিবার সহ আরও অনেকে জমিদান করেছিলেন। ১৯৪৭সালের ১ জানুয়ারি থেকে স্কুলটি সরকারি অনুমোদন পায়। প্রথমে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ও পরে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কো-এড বিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন মেলে। ২০১৩ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে ১৩টি বিষয় পড়ানোর অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিভাগ আলাদা। তবে তা একই ক্যাম্পাসের মধ্যে রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির সভাপতি পীযূষকান্তি ঘোষ বলেন, এই স্কুলে পড়াশোনার মান খুব উন্নত। কম্পিউটার ল্যাব, সায়েন্স ল্যাব ও জিমনাসিয়াম আছে। গ্রন্থাগার থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রীকে প্রতিবছর বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়। তবে পরিকাঠামোর আরও উন্নতি দরকার।বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহ-শিক্ষক দেবরাজ দত্ত বলেন, গত ১০বছর ধরে বিদ্যালয়ে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে। সরকারি সাহায্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হওয়ায় স্কুলে বাৎসরিক প্রায় ১ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হয়। ভবিষ্যতে এই স্কুল আরও সরকারি সাহায্য পাবে বলেই আমাদের আশা।বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক উপ-সমিতির সম্পাদক অমিতাভ সামন্ত বলেন, এই বিদ্যালয়ে সারাবছর সংস্কৃতিচর্চা হয়। অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ১৮০জন ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ২৫টি সমবেত নৃত্য, দু’টি নৃত্যনাট্য এবং তিনটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ