নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির আদি-নব্য শিবিরে দড়ি টানাটানি অব্যাহত। বিধানসভার মধ্যে আদি ও নব্য শিবিরের দুই মুখ পরস্পরের হাতে হাত রেখে ছবি তুললেও পূর্ব মেদিনীপুরে তার কোনও প্রভাব পড়ল না। বরং সংঘাতের জেরেই ২১টি মণ্ডল কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা ঝুলে রয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তমলুক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় মোট ৬৫টি মণ্ডল কমিটির মধ্যে ৪৪টির সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে। তারপর গত শুক্রবার দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতির নামও ঘোষিত হয়েছে। কিন্তু, বাদবাকি ২১টি মণ্ডলের নাম ঘোষণা এখনও বাকি। আদি-নব্য সংঘাতের জেরে নাম ঘোষণায় দেরি বলে দলীয় সূত্রের খবর।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলায় মোট সাতটি বিধানসভা এলাকা রয়েছে। ওই সাতটি বিধানসভার মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে চারটি। দু’টি পঞ্চায়েত সমিতি সহ বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। বিধানসভা ও পঞ্চায়েতের কিছু বোর্ড দখলের পরই আদি-নব্য সংঘাত আরও বেড়েছে। ৩০টি মণ্ডলের মধ্যে ১৬টির সভাপতির নাম ঘোষণা হয়েছে। এখনও ১৪টির নাম ঘোষণা আটকে। চণ্ডীপুরে মণ্ডল সভাপতিকে পরিবর্তনের দাবিতে জেলা সভাপতির কাছে তদ্বির করার পরও পরিবর্তন না হওয়ায় অনেক নেতা-কর্মী ক্ষুব্ধ। আদি-নব্য সংঘাত তীব্র হয়েছে কাঁথিতেও। কাঁথি উত্তর ও দক্ষিণ দু’টি বিধানসভা বিজেপির দখলে। ওই দুই বিধানসভা এলাকায় মোট আটটি মণ্ডল কমিটি রয়েছে। সেই আটটির মধ্যে কাঁথি দক্ষিণ-১ ও ৪নম্বর বাদে বাকি ছ’টি মণ্ডল সভাপতির নাম ঝুলে রয়েছে। ভগবানপুর বিধানসভাও বিজেপির দখলে।
কিন্তু, সেখানকার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতির বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ ক্রমশ চড়ছে। এই অবস্থায় ভগবানপুরের পাঁচটি মণ্ডলের মধ্যে মাত্র একটির সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে খেজুরি-২ব্লকে। সেই ব্লকে নিজকসবা, জনকা পঞ্চায়েতে বিজেপির গণ্ডগোল তীব্র হয়ে উঠছে। বিজেপির নিজকসবা পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগে এরআগে গ্রেপ্তার হন মণ্ডল সভাপতি।
শুধু কাঁথি নয়, তমলুক সাংগঠনিক জেলাতেও আদি-নব্য সংঘাতে সাতটি মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা আটকে রয়েছে। ময়নায় বিধায়ক অশোক দিণ্ডার সঙ্গে আদি শিবিরের জেলা সহ সভাপতির আশিস মণ্ডলের আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক। আশিসবাবু আবার তমলুকের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভীষণ ঘনিষ্ঠ। ময়নার বিধায়ক বিরোধী শিবির ২০মার্চ বাকচায় দিলীপ ঘোষকে এনে সারাদিনের কর্মসূচি রেখেছে। বনভোজন থেকে ফুটবল খেলা এবং পুরস্কর বিলি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আদি বিজেপি নেতারা একজায়গায় জড়ো হবেন।
গত ১৬ফেব্রুয়ারি মণ্ডল সভাপতিদের নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ পেয়েছে। তাতে কাঁথির ১৬টি এবং তমলুক সাংগঠনিক জেলার ২৮টি মণ্ডল কমিটির সভাপতির নাম ঘোষণা হয়। তারপর এক মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও বাদবাকি ২১টি মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা ঝুলে। কবে নাগাদ সেই তালিকা প্রকাশ হবে, তা নিয়েও চূড়ান্তভাবে কিছু বলতে পারছে না নেতৃত্ব।
বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয়কুমার সিনহা বলেন, ২০তারিখ আমাদের সাংগঠনিক বৈঠক আছে। সেখানে বাদবাকি মণ্ডল সভাপতিদের নাম নিয়ে আলোচনা হবে।
বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ২৫মার্চের পর আমরা সাংগঠনিক মিটিং করে বাকি ১৪টি মণ্ডল সভাপতির নাম চিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।