Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আনন্দপীঠে শ্মশানকালীর পুজো ও মেলা মঙ্গলবার, উদ্দীপনা করিমপুরে

আনন্দপীঠে শ্মশানকালীর পুজো ও মেলা মঙ্গলবার, উদ্দীপনা করিমপুরে
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: আগামী মঙ্গলবার শ্মশানকালী পুজো। তার আগে সেজে উঠছে করিমপুরের আনন্দপল্লি আনন্দপীঠ শ্মশান। রাতের মধ্যেই মায়ের প্রতিমা গড়া হয় এবং পুজো শেষে সেই রাতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এক রাতের এই পুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসে। বহু দূর দূরান্ত থেকে আসা মানুষ এই পুজোয় ও মেলায় ভিড় করেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৭ বছর আগে এই শ্মশানের আশপাশে কোনও বসতি ছিল না। জলঙ্গি নদীর তীরে এই শ্মশান চত্বর তখন ঘন জঙ্গলে ভরা ছিল। শেয়ালের ভয়ে সন্ধ্যার আগেই এখনকার পুজোস্থলে লোকজনের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যেত। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দা শান্তি ভট্টাচার্য আনন্দপল্লি শ্মশানে প্রথম এই পুজো চালু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে সেই শ্মশানের এবং আশপাশের চেহারা বদলে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ সরকার বলেন, বন-জঙ্গলের জায়গায় শ্মশানে এখন বৈদ্যুতিক চুল্লি হয়েছে, স্থায়ী মন্দির ও আলোর ব্যবস্থা হয়েছে। পুজো কমিটির সদস্যরা শ্মশানের এক রাতের এই পুজো পরিচালনা করেন। পুজোর সময় এখানে প্রায় ৫০-৬০টি ছোট বড় দোকান বসে। রাতভর মানুষের ভিড় থাকে। 
Advertisement
পুজো কমিটির সম্পাদক রাকেশ মিস্ত্রি জানান, এলাকার মানুষের কাছে চাঁদা সংগ্রহ করেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও যাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ হয়, তাঁরাও পুজো দেন এবং অর্থ সাহায্য করেন। পুজোর দিন সকালে মায়ের চালন নিয়ে বাজনা বাজিয়ে করিমপুরের রাস্তায় পরিক্রমা করা হয়। পুজো কমিটির সদস্য ছাড়াও এলাকার বহু মানুষ পরিক্রমায় অংশ নেন। সন্ধ্যার পরে বাঁশ কেটে কাঠামো বেঁধে রাতে বিচুলি, মাটি রং দিয়ে মায়ের প্রতিমা বানানো হয় এবং পুজো শেষে ভোরেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতি বছর অমাবস্যার দিন কালীপুজোর ঠিক পরের মঙ্গলবার এই পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজোর সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে ঢাকিরা আসেন। তাঁদের সংখ্যা একশো থেকে দুশো পর্যন্ত হয়। পুজো কমিটির আরেক সদস্য বিশ্বজিৎ দেবনাথ জানান, সারা রাত পুজো হয় এবং মেলার কেনাকাটা চলে। শ্মশানে মানুষের ভিড় থিকথিক করে। নিরাপত্তার জন্য পুলিস ও অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক থাকেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ