সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: আলমারির মধ্যে খানিক গোপনে ব্যাগে রাখা কড়কড়ে পাঁচশোর ছ’টি নোট। আবার হরলিক্সের বাতিল করে দেওয়া জার থেকে পাঁচশোর নোটগুলি হাসিমুখে সন্তানকে টিউশন ফি বাবদ এগিয়ে দেন মা। গৃহকর্ত্রী এই টাকাগুলি খরচ করার মধ্যে দিয়ে আসলে খুঁজে পান আর্থিক স্বাধীনতার স্বাদ। যার পোশাকি নাম অন্নপূর্ণা যোজনা। বিজেপি সরকারের দেওয়া এই আর্থিক প্রকল্প আজ অনেক দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মহিলার কাছে ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। এই আর্থিক সহায়তাতেই সংসারে স্বস্তি ফিরেছে নদীয়ার লক্ষাধিক মহিলার। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগরের রবীন্দ্রভবনে অন্নপূর্ণা দিবসের অনুষ্ঠানে জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লী জানান, নদীয়া জেলায় ১০ লক্ষের বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক মৌলি সান্যাল, কৃষ্ণনগর-১এর বিডিও গার্গী দাস, কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক সাধন ঘোষ-সহ প্রশাসন আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে জেলাশাসক বলেন, এটা শুধু মাসিক সহায়তা নয়। এই টাকা মানুষের বাড়িতে পরিবর্তন আনতে পারে। রাজ্যে দেড় কোটি মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছেন। আমাদের জেলাতেই ১০ লক্ষ উপভোক্তা রয়েছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়ায় অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ মহিলা আবেদন করেছিলেন। প্রথম দফায় প্রায় ৭ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। গত ১৭ আগস্ট থেকে দ্বিতীয় দফায় আরও প্রায় ৩ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। ফলে জেলায় মোট উপভোক্তার সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়িয়েছে।
এদিন রবীন্দ্রভবনের অনুষ্ঠানে উপভোক্তা মহিলাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁদের অনেকেই জানান, মাসিক এই আর্থিক সহায়তা সংসারের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
উপভোক্তা তপতী রায় বলেন, “অন্নপূর্ণার উপভোক্তা হয়ে আমি উপকৃত হয়েছি।” আর এক উপভোক্তা সোমা মিত্রর কথায়, প্রধানমন্ত্রী এখানে এসে বলেছিলেন, প্রত্যেককে অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হবে। আমি নিজে সিটি
গোল্ডের ছোটো ব্যবসা করি। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়ে খুব উপকৃত হয়েছি। -নিজস্ব চিত্র