Bartaman Logo
৩ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সেবা সেতু ক্যাম্পে নেই অন্নপূর্ণার টেবিল, ফ্লেক্স ছিড়ে টেবিল উলটে তুমুল বিক্ষোভ মহিলাদের

‘সেবা সেতু’ ক্যাম্পে অন্নপূর্ণা যোজনার টেবিল নেই। জমা দেওয়া যাচ্ছে না আবাস যোজনার আবেদনপত্র।

সেবা সেতু ক্যাম্পে নেই অন্নপূর্ণার টেবিল, ফ্লেক্স ছিড়ে টেবিল উলটে তুমুল বিক্ষোভ মহিলাদের
  • ৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘সেবা সেতু’ ক্যাম্পে অন্নপূর্ণা যোজনার টেবিল নেই। জমা দেওয়া যাচ্ছে না আবাস যোজনার আবেদনপত্র। শুক্রবার এই দু’টি ইস্যুতে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়াল রামপুরহাট ১ ব্লকের কিষাণ মাণ্ডিতে। সরকারি পরিষেবা পাওয়ার আশায় দূর-দূরান্ত থেকে এসেছিলেন প্রচুর মহিলা। পরিষেবা না পেয়ে সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ক্ষুব্ধ মহিলারা পুলিশের সামনেই ক্যাম্পের ফ্লেক্স ছিড়ে, চেয়ার-টেবিল  উলটে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে এসে মহিলাদের রোষের মুখে পড়তে হয় বিডিও অঙ্কুর মিত্রকে।

Advertisement

এদিন সকাল থেকেই অন্নপূর্ণা ও আবাস যোজনায় বঞ্চিত উপভোক্তারা কাগজপত্র নিয়ে হাজির হন ওই শিবিরে। এঁদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘ চার মাস ধরে পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে ঘুরেও অন্নপূর্ণার টাকা পাননি। অনেক প্রত্যাশা নিয়ে টোটো ও মোটরভ্যান ভাড়া করে এসেছিলেন মহিলারা। দুপুরের পর তাঁরা জানতে পারেন, ক্যাম্পে অন্নপূর্ণা কিংবা আবাসের সমস্যা সমাধানের কোনো টেবিলই রাখা হয়নি। নতুন ফরম বা কাগজপত্রও জমা নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি কর্মীদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে একসময় ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে। সবাই জোট বেঁধে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ছিঁড়ে ফেলা হয় ক্যাম্পের ফ্লেক্স, লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয় চেয়ার, টেবিল। অন্যান্য প্রকল্পের ক্যাম্পেও তাণ্ডব চালান মহিলারা। আতঙ্কে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন সরকারি কর্মীরা। বিশাল পুলিশ বাহিনী এসেও মহিলাদের শান্ত করতে ব্যর্থ হয়।
খরুণগ্রাম থেকে এসেছিলেন পার্বতী লেট, চাকপাড়ার কণিকা লেটরা। ক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, ‘অযোগ্য অনেকে সুবিধা পেলেও আমাদের মতো প্রকৃত প্রাপকরা বঞ্চিত। চার মাস ধরে জেরক্স আর যাতায়াত করতেই টাকা শেষ। ক্যাম্পে সুবিধা মিলবে না, তা আগে প্রচার করা হয়নি কেন?’
ক্ষোভের আগুন বাড়তে থাকলে শিবিরে আসেন বিডিও অঙ্কুর মিত্র। মহিলারা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আঙুল উঁচিয়ে প্রতিবাদ জানান। বলতে থাকেন, ‘ধৈয্যের আর কত পরীক্ষা দেব?’ বাধ্য হয়ে বিডিও মাইক হাতে অন্নপূর্ণা নিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। তারপরেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। যদিও উপভোক্তাদের দাবি, অভিযোগ জমা নিলেও কোনো রিসিভ কপি দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি বিডিও।
এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা তাপস মণ্ডলের দাবি, ‘পোর্টাল বন্ধ থাকা সত্ত্বেও সরকারের বদনাম করতেই তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যরা মহিলাদের মিথ্যা কথা বলে এই ক্যাম্পে পাঠিয়েছেন।’ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা বিজেপি নেতা অষ্টম মণ্ডল বলেন, ‘আজকে যাঁরা ঝামেলা করেছেন, তাঁরা সুবিধা নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরিবেশ নষ্ট করতে এই ঝামেলা করেছেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে মহিলারা বলেন, ‘আমরা যদি আর্থিক সুবিধা নেব না, তাহলে টাকা খরচ করে কেন এই ক্যাম্পে আসব?’ প্রতিবাদী মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়ে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সঞ্জীব মল্লিক বলেন, ‘ক্যাম্পের নামে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এরকম ক্ষোভের বিস্ফোরণ আরও ঘটবে। সামলাতে পারবেন না বিজেপি নেতারা।’ বগটুই গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য নাজিমূল হক বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছিল অন্নপূর্ণা, বিধবা ভাতার পরিষেবা ক্যাম্পে মিলবে। কিন্তু, মহিলারা এসে জানতে পারেন, কোনো পরিষেবাই পাওয়া যাচ্ছে না। তখনই তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ