নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিগত দু’মাস প্রথম সপ্তাহেই অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও, তৃতীয় বা আগষ্ট মাসে তা হয়নি। যা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে। তবে এই বিভ্রান্তি অমূলক বলেই বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চলতি মাসের টাকা ১৭ আগষ্ট থেকে দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শুভেন্দু বলেন, এর পরের মাস থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়া হবে। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনা ইস্যুতে করে যাঁরা সমাজমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি জানিয়েছেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। মোট ২ কোটি ১৬ লক্ষ আবেদন এসেছে। যা যাচাই করে যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যোজনার গাইডলাইন নিয়ে আগামী ১০ আগষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী মালতী রাভা রায়কে নিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবেন।
এদিনই নবান্ন সভাঘর থেকে ১০ লক্ষ ২০ হাজার ৩৭৯ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পশ্চিমবঙ্গ আবাস প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির মোট ৬১২২ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এরাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ থাকার যথেষ্ট ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এর সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের স্মৃতি জড়িত। আর সেই কারণেই পূর্বতন সরকারের দেওয়া ‘বাংলার বাড়ি’ নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দুবাবু। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত, পঞ্চায়েত সচিব পি উলগনাথন সহ বিশিষ্ট জনেরা। দীর্ঘ সময়ের পর রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকা তৈরি হচ্ছে। যার সহায়তা পেতে আবেদন এসেছে ২০ লক্ষ। যা যাচাই করে দুর্গা পুজোর পরেই আবাস প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন, সে বিষয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এসআইআরে নাম বাদ পড়ার পর যে সাত লক্ষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানিয়েছেন এবং যে ২ লক্ষ ৩০ হাজার সিএএ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁরা সমস্ত সুবিধা পাবেন। তবে ট্রাইবুনালে আবেদন সংক্রান্ত ইস্যুতে আজ শুক্রবার তাঁর কাছে বিরোধী দল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা একটি ডেপুটেশন দিতে আসবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
শব্দদূষণ ঠেকাতে পুলিশের অনুরোধ মেনে বিভিন্ন ধর্মস্থান কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় ৫২৯৯ টি মাইক খুলে নিয়েছে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ধর্মস্থানের মাইক ইস্যুতে আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান বৃহস্পতিবার অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে মসজিদ থেকে আজানের মাইক্রেফোন ও লাউডস্পিকার সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট এবং রাজ্য সরকারের নিয়মবিধি মেনে নির্দিষ্ট ডেসিবলেই আজানের মাইক বাজানো হয়। তার পরেও কেন তা খুলে দেওয়া হবে? এই প্রশ্ন তুলে অমিত শাহের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এনসিপিআইয়ের উল্লেখিত সাংসদরা। শাহ তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন বলে বৈঠকের পর জানান আবু তাহের খান। -নিজস্ব চিত্র