Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অন্নপূর্ণায় বঞ্চিত, পোর্টাল খুলতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে বিস্তর কাঠখড় পোড়ানোর পরও টাকা কেন ঢুকল না—এই প্রশ্ন তুলে বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত বা পুরসভা কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ‘বঞ্চিত’ মহিলারা।

অন্নপূর্ণায় বঞ্চিত, পোর্টাল খুলতে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
  • ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে রাজ্য তোলপাড়। ১৩ পাতার ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে বিস্তর কাঠখড় পোড়ানোর পরও টাকা কেন ঢুকল না—এই প্রশ্ন তুলে বিডিও অফিস, পঞ্চায়েত বা পুরসভা কার্যালয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ‘বঞ্চিত’ মহিলারা। রেল ও রাস্তা অবরোধ পর্যন্ত হচ্ছে। এবার সরকারি পোর্টালেও আছড়ে পড়ল অন্নপূর্ণায় ‘বঞ্চিত’ মহিলাদের ক্ষোভ। ১৭ আগস্ট থেকে রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার করে টাকা পাঠানো শুরু করে নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। ১৯ আগস্ট বিকালে খুলে দেওয়া হয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ পোর্টাল। সেখানেই রয়েছে প্রকল্প সংক্রান্ত  অভিযোগ জানানোর সুযোগ। মাত্র দু’দিনে সেখানে সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। কারও দাবি, জুলাইয়ে টাকা পেলেও আগস্ট মাসে পাননি। কারও আবার অভিযোগ, অন্যায্যভাবে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

সরকারি সূত্রে খবর, এই পোর্টালে দু’ধরনের অভিযোগ জানানো যাচ্ছে। প্রথমত, যদি কেউ নিজেকে যোগ্য উপভোক্তা মনে করলেও টাকা ঢোকেনি, তিনি অভিযোগ জানাতে পারেন। একই সঙ্গে পুনরায় তিনি কোনো নথি সেখানে ‘আপলোড’ করে তা পুনর্যাচাইয়ের আবেদন করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, যদি কারও মনে হয় যে ‘অযোগ্য’ কেউ এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে গিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো যায়। তবে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভের আবহে যোগ্য দাবি করে ‘বঞ্চিত’ প্রাপকদের অভিযোগকেই প্রাধান্য দিচ্ছে রাজ্য। অভিযোগের সংখ্যা আরও অনেকটা বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। তবে এখনও পর্যন্ত আসা অভিযোগের অধিকাংশই বিভিন্ন পুরসভা এলাকার বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, পুর এলাকার ক্ষেত্রে তিনটি ঘর থাকলে আর্থিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। সেই সঙ্গে কলকাতা সহ সাতটি পুরসভা এলাকায় ৫০ ডেসিমাল জমি থাকলেও অন্নপূর্ণার টাকা মিলবে না বলে জানানো হয়েছে। এই দুই কারণে টাকা না পাওয়া মহিলারাই অভিযোগকারীদের বড়ো অংশ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ইতিমধ্যে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। 
২০ আগস্টের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা পাঠানোর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। রাজ্যের দাবি, সেদিন রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ১৩ হাজার ৩৪৮ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো সম্ভব হয়। ২১ আগস্ট রাত ১০টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সংখ্যাা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৫০-এ। সর্বাধিক উপভোক্তা রয়েছেন দুই ২৪ পরগনায়। উত্তর ২৪ পরগনায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০৬ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ১১ লক্ষ ১৯ হাজার ৬৬৯। ১০ লক্ষের বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে মুর্শিদাবাদ (১১ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৫৮) এবং দুই মেদিনীপুর জেলায় (২০ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৬৩)। তবে কলকাতায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন মাত্র ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৩৮ জন।  শহর এলাকার জন্য বাড়তি শর্তই কি এর নেপথ্যে? উঠছে প্রশ্ন। 
এদিকে, শনিবার অন্নপূর্ণা যোজনার বঞ্চিতরা ঘেরাও করেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংকে। এদিন তিনি উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা বিডিও অফিসে বৈঠক করতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভুলে এখন কেন নানা নিয়ম দেখিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে? প্রথমে মেজাজ হারালেও পরে মন্ত্রীর আশ্বাস, ‘যোগ্য প্রত্যেকেই টাকা পাবেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ