সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা-শিলিগুড়ি রাজ্যসড়কের ধারে প্রাণিসম্পদবিকাশ দপ্তরের প্রায় দেড় একর জমি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। তার এক কোনে রয়েছে এই দপ্তরের ব্লক অফিস। সন্ধ্যার পর সেই ফাঁকা জায়গায় বসছে মদ্যপদের আড্ডা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শহর সংলগ্ন এই জমিতে পশুপালনের ফার্ম গড়ে তোলা হলে পরিবেশ বদলাবে। প্রাণী পালকদের সুবিধা হবে। যুবদের কর্মসংস্থান হবে।
ব্লক প্রাণিসম্পদ আধিকারিকের দাবি, এনিয়ে জেলায় অনেকবার কথা বলা হয়েছে। ব্লক অফিসের জন্য প্ল্যান এস্টিমেট জমা করা হয়েছে। সেখানে পল্ট্রি ডিম উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে।
বাম আমলে ১৯৯৫ সালে এনবিএসটিসির বাস ডিপোর পাশে প্রায় দেড় একর জমিতে গবাদি প্রাণী প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। সেই সময় জায়গাটি জমজমাট ছিল। পরবর্তীতে এই প্রজনন কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময়ের তৈরি ঘরে পরবর্তীতে ব্লক প্রাণিসম্পদ আধিকারিকের দপ্তর করা হয়। সেই অফিসের অবস্থাও বেহাল। প্রাণী প্রজননের জন্য বড় দুটো শেডঘর এখন কার্যত পরিত্যক্ত। প্রায় একএকর জায়গা জঙ্গলে ভরেছে। একাংশের বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে রয়েছে। দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, যে কোনও প্রকল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জমি সমস্যা একটি বড়ো বিষয়। সেখানে দপ্তরের দেড় একর জমি পড়ে রয়েছে। তারপরও কোন প্রকল্প করা হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার বলেন, সন্ধ্যার পর ওই ফাঁকা জমিতে মদ্যপদের আড্ডা বসে। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। ফার্ম গড়ে তুললে স্থানীয়রা কাজ পাবেন।
এব্যাপারে মাথাভাঙা-১ ব্লক প্রাণিসম্পদ আধিকারিক স্বপনকুমার দাস বলেন, আমাদের এখানে দপ্তরের প্রচুর জমি রয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের অফিসেরও বেহাল অবস্থা। এনিয়ে একটি প্ল্যান এস্টিমেট পাঠানো রয়েছে। আমরা এই জমিতে ফার্ম করার আর্জি জানিয়েছি। এখনও পর্যন্ত এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমাদের দপ্তরের যে কোনও প্রজেক্ট করলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান হবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, জায়গাটি শহর সংলগ্ন রাজ্যসড়কের ধারে রয়েছে। তাই অনেকটাই সুবিধা হবে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিত্যক্ত শেড ঘর। - নিজস্ব চিত্র