Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানের রমনাবাগানে পরপর প্রাণী-মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে বনদপ্তরের ভূমিকা

বর্ধমানের রমনাবাগানে পরপর প্রাণী-মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে বনদপ্তরের ভূমিকা
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাত্র একমাসের মধ্যে বর্ধমানের রমনাবাগান অভয়ারণ্যে কুমির, হয়না এবং হরিণের মৃত্যুতে বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লাগাতার বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হওয়ায় ক্ষুব্ধ পশুপ্রেমীরা। তাঁদের দাবি, বনদপ্তর একটু সজাগ থাকলে এতগুলি প্রাণী মারা যেত না। একমাস আগে  রমনাবাগানের জলোশয়ের দু’টি পুরুষ কুমিরের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর একটি কুমির মারা যায়। পশুপ্রেমীদের দাবি, এই ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নই। বনদপ্তরের আধিকারিকরাও জানতো দু’টি পুরুষ কুমিরের মধ্যে সংঘর্ষ বাধতে পারে। তারপরও তাদের কেন আলাদা করা হল না, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। একইভাবে কিছুদিন আগেই দু’টি হায়না বাচ্চা উধাও হয়ে যায়। আধিকারিকরা তদন্ত নেমে জানতে পারেন  বাচ্চা দু’টিকে মা হায়না খেয়ে ফেলেছে। 

Advertisement

দুর্বল বাচ্চা হলে হায়না প্রজাতির প্রাণীরা এমনটাই করে থাকে। সেটাও বনদপ্তরের অজানা ছিল না। কিন্তু তারপরও কেন বাচ্চা দু’টিকে রক্ষা করা গেল না, সেটা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বনদপ্তর সূত্রের জানা গিয়েছে, দু’দিন আগে এনক্লোজার থেকে একটি হরিণেরও মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, পূর্ণাঙ্গ বয়সির সঙ্গে বয়সে ছোট একটি হরিণের সংঘর্ষ বেধে ছিল। ছোট হরিণটির মাথায় আঘাত লাগে। সিং ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণের ফলে সেটির মৃত্যু হয়। পশুপ্রেমী অর্ণব দাস বলেন, হায়নার বাচ্চা দু’টিকে বাঁচানো গেলে  রমনাবাগান নতুন একটি রেকর্ড তৈরি করতে পারতো। কিন্তু সেটা তারা করতে পারেনি। বনদপ্তরের আধিকারিকরা আর একটু সচেতন হলে হয়তো এতগুলি প্রাণী মারা যেত না। 
এডিএফও সৌগত মুখোপাধ্যায় বলেন, গাফলিতির অভিযোগ ঠিক নয়। বন্যপ্রাণীদের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হরিণ বা কুমির নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ মারা গিয়েছে। আর এক আধিকারিক বলেন, প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে হায়নার বাচ্চা আলাদা করা যায় না। অসুস্থ বাচ্চা হলে তারাই মেরে ফেলে। কয়েকদিন আগে তেমনটাই হয়েছিল। পশুপ্রেমীরা বলেন, কখন কী হতে পারে সে সম্পর্কে আধিকারিকরা যথেষ্ট ওয়াকিবহল রয়েছে। 
তাঁদের সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তা না হলে এভাবে পশুর মৃত্যু হতেই থাকবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ নিত্যানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বনদপ্তর যথেষ্ট সজাগ রয়েছে। তবুও কী কারণে এতগুলি প্রাণী মারা গেল তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ