Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা, প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হল পুকুর ভরাটের কাজ

গ্রামের হাজারেরও বেশি বাসিন্দা নির্ভরশীল পাশের পঞ্চায়েতের একটি পুকুরের ওপর। কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁরা ব্যবহার করে আসছেন পুকুরটি।

ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা, প্রশাসনের নির্দেশে  বন্ধ করা হল পুকুর ভরাটের কাজ
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গ্রামের হাজারেরও বেশি বাসিন্দা নির্ভরশীল পাশের পঞ্চায়েতের একটি পুকুরের ওপর। কয়েক প্রজন্ম ধরে তাঁরা ব্যবহার করে আসছেন পুকুরটি। সম্প্রতি নির্মাণ কাজের জন্য পুকুর বোজানোর কাজ শুরু হতেই প্রতিবাদে সরব হন তাঁরা। পাল্টা কটূক্তি শুনতে হয় বাসিন্দাদের। তাই পুকুর বাঁচাতে পাশের পঞ্চায়েতে গিয়ে গণস্বাক্ষরিত চিঠি দিলেন গ্রামবাসীরা। প্রশাসনের নির্দেশে তড়িঘড়ি পুকুর বোজানো বন্ধ করেছে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি সাঁকরাইল ব্লকের ঝোড়হাট ও বাণুপুর-২ পঞ্চায়েতের।

Advertisement

বাণুপুর-২ পঞ্চায়েতের বাসুদেবপুর লাইব্রেরি গ্রাম। গ্রামের সীমানায় রয়েছে প্রায় দশ কাঠা আয়তনের একটি পুকুর। বাসুদেবপুরের হাজারের বেশি বাসিন্দা এই পুকুরের জলেই নিত্যদিনের কাজকর্ম সারেন। বাণুপুর-২ পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা পুকুরটি ব্যবহার করলেও এটি মূলত পার্শ্ববর্তী ঝোরহাট পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। জানা গিয়েছে, একটি ক্লাবের মালিকানাধীন এই পুকুরের একাংশ ভরাট করে সম্প্রতি সেখানে নির্মাণ কাজের তোড়জোড় শুরু হয়। শুধু তাই নয়, বেশ কিছুদিন ধরে পুকুরে নোংরা আবর্জনা ফেলে এক প্রকার ইচ্ছাকৃতভাবে জলকে দূষিত করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। পুকুর ভরাটের প্রতিবাদ করেন বাসুদেবপুরের বাসিন্দারা। পুকুরের মালিকের কাছে গিয়ে গ্রামবাসীরা আপত্তি জানালে পাল্টা অপমান করা হয় তাঁদের। বলা হয়, পুকুর ভরাট করার অধিকার ক্লাবের রয়েছে। এরপরেই বাসিন্দারা স্থানীয় বাণুপুর-২ পঞ্চায়েতের শিল্প সঞ্চালক তপন দাসের দ্বারস্থ হন। তপনবাবু বলেন, ‘পুকুরটি যেহেতু পাশের ঝোড়হাট পঞ্চায়েতের অধীনে পড়ে, তাই সরাসরি সেখানকার পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বলি। পুকুর যাতে ভরাট করা না হয়, সেজন্য আমিও প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
এরপরেই গ্রামের বাসিন্দারা মিলে গণস্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন ঝোড়হাট পঞ্চায়েতে। অভিযোগ জানানো হয় সাঁকরাইলের বিডিওর কাছেও। প্রশাসনের নির্দেশ পেতেই নড়েচড়ে বসে ঝোড়হাট পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জয় অধিকারী বলেন, ‘ওই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্যকে পাঠিয়ে পুকুর বোজানো বন্ধ করেছি। পুকুরে যাতে কোনওভাবেই দূষণ ছড়ানো কিংবা ভরাট করার কাজ না হয়, সেজন্য ক্লাবকে সতর্ক করা হয়েছে।’ বাসুদেবপুরের বাসিন্দা শোভারানি অধিকারী, কাকলি অধিকারী, পূর্ণিমা দে, শম্পা সরকাররা বলেন, ‘গ্রামের সব বাড়িতে এখনও পানীয় জলের লাইন পৌঁছয়নি। বহু বছর ধরে এই পুকুরের ওপরেই আমরা নির্ভরশীল। পঞ্চায়েত পদক্ষেপ না নিলে পুকুর ভরাট করে ফেলা হতো।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ