Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা কমিটি নিয়ে গোঁসা, বিজেপিতে বিদ্রোহ

নতুন জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বাঁকুড়ায় অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ হচ্ছে পদ্ম শিবির। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার সিমলাপালে দলের মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি ও গালিগালাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর করলেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সম্পাদক।

জেলা কমিটি নিয়ে গোঁসা, বিজেপিতে বিদ্রোহ
  • ২৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নতুন জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বাঁকুড়ায় অন্তর্দ্বন্দ্বে দীর্ণ হচ্ছে পদ্ম শিবির। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার সিমলাপালে দলের মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি ও গালিগালাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর করলেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সম্পাদক। সংগঠনের হাঁড়ির হাল ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়া দলীয় কার্যালয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন তুলতেই তাঁর উপর মণ্ডল সভাপতি সৌভিক পাত্র খড়্গহস্ত বলে ‘আদি’ বিজেপি নেতা পুলকেশ পাত্র অভিযোগ করেছেন। সামগ্রিকভাবে প্রতিক্রিয়ার জন্য বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি। 

Advertisement

বিজেপির সিমলাপাল ৩ নম্বর মণ্ডলের প্রাক্তন সম্পাদক পুলকেশ পাত্র বলেন, বিক্রমপুর গ্রামে আমার ও সৌভিকের বাড়ি। আমি ২০০৯ সাল থেকে দল করছি। সৌভিক নবাগত হয়েও উপরমহলকে ধরে সভাপতি পদ পেয়েছেন। জেলার মতোই ব্লকেও সংগঠনের বেহাল দশা। মণ্ডল কমিটির কোনও কার্যালয় নেই। বিক্রমপুর অঞ্চল পার্টি অফিস দীর্ঘদিন না খোলার কারণে ঝোপজঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। ওই কার্যালয়ের ছবি তুলে আমি ফেসবুকে পোস্ট করি। রবিবার রাতে আমার বাড়িতে সৌভিক দলবল নিয়ে চড়াও হন। ওইসময় বাড়িতে আমি ছিলাম না। স্ত্রী ও সন্তানদের সামনেই আমাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করা হয়। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের হুমকি দেওয়ার ফুটেজ সিসি ক্যামেরায় বন্দি হয়েছে। আমি প্রমাণ সহ সিমলাপাল থানায় এফআইআর করেছি। 
মণ্ডল সভাপতি সৌভিক পাত্র বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনা ঘটেছে। তবে আমাদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। পুরানো কর্মী হলেও পুলকেশ পাত্র বর্তমানে দলে সক্রিয় নন। তবে আমরা জেলা নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেব। 
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, পুলকেশ পাত্রের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় বিজেপির নতুন জেলা কমিটি গঠন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। কমিটি ঘোষণার পরদিন থেকে রানিবাঁধের কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন। নামিয়ে দেওয়া হয়েছে দলের ঝান্ডাও। তারপর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের বিভিন্ন গ্রুপে ও নিজ নিজ প্রোফাইলে বিজেপি কর্মীরা ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। কর্মীদের অভিযোগ, কমিটি গঠনে আদিদের পাত্তা দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে দলের দুর্দিনে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া, চিটফান্ডে মানুষকে প্রতারিত করা, জমি দালালদের জেলা কমিটিতে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার পিছনে ‘টেবিলের তলায় খেলা হয়েছে’ বলে বিজেপির বিক্ষুব্ধরা অভিযোগ তুলেছেন।  
রানিবাঁধ ব্লক বিজেপির কনভেনার অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, রাজ্যস্তরের এক দলবদলু নেতা তৃণমূলে থাকাকালীন ২০১৮ সালে রানিবাঁধে এসে পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধী শূন্য করার ডাক দিয়েছিল। ওইসময় শাসক দলের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের এক কর্মী খুন হয়েছিলেন। ওই নেতা এখন বিজেপির সর্বেসর্বা হয়েছেন। তাঁর ইন্ধনেই আদি বিজেপির নেতাকর্মীদের ব্রাত্য করে দলবদলুদের ফের জেলা কমিটিতে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। এভাবে দল চললে রানিবাঁধে বিজেপির ঝান্ডা ধরার কেউ থাকবে না।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ