সংবাদদাতা, বহরমপুর: টোটোর দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বহরমপুর শহরের বাসিন্দারা। নম্বর বিহীন ও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা টোটোর চাপে ঘনঘন যানজটে থমকে যাচ্ছে শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলি। বিশেষ করে অফিস টাইমে নাভিশ্বাস উঠছে। তাই শহরে টোটোর দাপট কমাতে এবার পথে নামল পুরসভা। গ্রামীণ এলাকা থেকে শহরের প্রবেশগুলিতে মোতায়েন করা হয়েছে পুরকর্মীদের। সকাল থেকে শহরের প্রবেশ পথগুলিতে গ্রামীণ এলাকার টোটো শহরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন পুর কর্মীরা। প্রবেশ পথের মুখ থেকেই সেগুলি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিন থেকে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় আশানুরূপ ফল মিলছে বলেই দাবি পুরকর্তাদের। বহরমপুর পুরসভার এক কর্তা জানালেন, আপাতত টোটো চালকদের সচেতন করতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরপর প্রয়োজনে শহরে প্রবেশকারী অবৈধ টোটোগুলির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধরপাকড়ের পাশাপাশি জরিমানার ইঙ্গিতও মিলেছে।
বহরমপুর শহরে ১৫ হাজারের বেশি টোটো চলে। পরিবহণ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে সিংহভাগ টোটো পরিবহণ দপ্তরের অনুমোদিত নম্বর প্লেট নিয়ে ঘুরছে। পরিবহণ দপ্তর নম্বরবিহীন টোটোগুলির উপর নজর রেখে ধরপাকড় শুরু করেছে। এতদিন পঞ্চায়েত এলাকার বহু টোটো শহরে দাপিয়ে বেড়াত। এবার সেই টোটোগুলিকে পুরসভার রেডারে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পঞ্চায়েত এলাকা সহ বেলডাঙা, কাঁটাবাগান, হরিহরপাড়া, দৌলতাবাদ, লালবাগ, গঙ্গার পশ্চিমপাড় রাধারঘাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার টোটো বহরমপুর শহরে ঢুকত। শহর যানজট মুক্ত করতে সেই টোটোগুলিকেই আটকানো হচ্ছে। চালতিয়া, গোরাবাজার শ্মশান, চোয়াপুর, ভাগীরথী ব্রিজের পশ্চিম প্রান্ত সহ একাধিক প্রবেশ পথে পুরকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। পুরসভার এক কর্মী বলেন, গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা টোটো ও নম্বর প্লেটহীন টোটোগুলিকে আটকানোর নির্দেশ রয়েছে। টোটো চালকদের শহরে প্রবেশ পথ থেকেই ফেরানো হচ্ছে।
পুরসভার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুর নাগরিকরা। খাগড়া এলাকার বাসিন্দা পূর্ণেন্দু বিশ্বাস বলেন, পুরসভা খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। অনেক আগেই এই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিছুটা হলেও দুর্ভোগ কমছে। তবে পুরসভার এই উদ্যোগে বেজায় বেকায়দায় পড়েছেন বাইরে থেকে আসা টোটো চালকরা। তাঁদের দাবি, পুরসভার কড়াকড়ি মনোভাবে তাঁদের রুজি রোজগারে টান পড়ছে। নওদাপানু এলাকার টোটো চালক হাফিজ দেওয়ান বলেন, টোটোর রেজিস্ট্রেশন করিয়ে খরচা বেড়েছে। শহরে ঢোকার অনুমতি না মেলায় আমাদের আয় অনেক কমতে শুরু করেছে। টোটো চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।