সংবাদদাতা, রানাঘাট: সুইচ বোর্ড আছে। মাথার উপর রয়েছে ফ্যান ও আলো। কিন্তু, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। এই চিত্র মেলের মাঠ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের। আর এই মেলেরমাঠ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে বিজেপির শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বাড়ি।
দীর্ঘদিন ধরে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শোচনীয় অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুদে পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। প্রায় দেড় বছর ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে রয়েছে এই কেন্দ্র। গরমের মধ্যে স্কুলে গলদঘর্ম হয়ে কাহিল হয়ে পড়ে খুদে পড়ুয়ারা। অনেক পড়ুয়ার অভিভাবক বাড়ি থেকে হাতপাখা নিয়ে এসে বাতাস করেন। অভিভাবকরা বলেন, গরমে নিজেরাই ফ্যান ছাড়া থাকতে পারি না। সেখানে ছোট বাচ্চারা কীভাবে থাকবে? অনেক অভিভাবক বিদ্যুৎ না থাকায় বাচ্চাকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাঠান না। বর্তমানে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন পড়ুয়া রয়েছে। গরমে গরমে মিড ডে মিলের খাবার খেতেও সমস্যা হয় বাচ্চাদের।
এক শিশুর অভিভাবক মলিনা বিশ্বাস বলেন, কেন্দ্রে গিয়ে বাচ্চাকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে হয়। আরেক অভিভাবক সংগীতা মণ্ডল বলেন, আমাদের চেয়ে বাচ্চাদের গরম বেশি অনুভূত হয়। গরমে পাখা ছাড়া আমরা নিজেরা থাকতে পারি না। বাচ্চারা ওখানে গিয়ে কী করে পড়াশোনা করবে? অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের দিদিমণি লাখি পাল বলেন, বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র শান্তিপুর সিডিপিও অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শীঘ্রই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। বিজেপির শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নৃপেন মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা চলছে, যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করা হবে। বিগত সরকার থাকাকালীন আমাকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি তাই এটি করে উঠতে পারিনি। শান্তিপুরের বিডিও সব্যসাচী রায় বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে।