Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আন্দোলনের চাপে ভগবানগোলায় উচ্ছেদ স্থগিত রেলের

আন্দোলনের চাপে ভগবানগোলায় উচ্ছেদ স্থগিত রেলের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, লালবাগ: ভগবানগোলা ভূমি উচ্ছেদ কমিটির আন্দোলনের ফলে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল রেল। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল, আপাতত রেল কলোনির বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। পূর্ব রেলের লালগোলা-শিয়ালদহ শাখার ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক দে বলেন, আপাতত উচ্ছেদ স্থগিত রাখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং ভূমি উচ্ছেদ কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 
Advertisement
ভগবানগোলা স্টেশন সংলগ্ন গুড়িপাড়া এলাকায় ১৬২ নম্বর রেলগেট তুলে দিয়ে আন্ডারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় রেল। গত ২১ নভেম্বর রেলদপ্তর ভাঙনপাড়া ও বীরেন্দ্রনগর কলোনিতে এক সপ্তাহ সময়সীমা বেঁধে দিয়ে উচ্ছেদ নোটিস দেয়। বাসিন্দারা নিজেরাই ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র সরিয়ে না নিলে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৮ নভেম্বর রেল উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৫ সাল এই দশ বছরে পদ্মার ভাঙনে ঘরবাড়ি, চাষের জমি হারিয়ে আখেরিগঞ্জ এলাকার কয়েকশো পরিবার ভগবানগোলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বসবাস শুরু করে। গড়ে ওঠে ওই দু’টি রেল কলোনি। আচমকা রেলের ওই নোটিস পেয়ে ওই সব পরিবারের সদস্যরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। তারা ভূমি উচ্ছেদ কমিটি গঠন করে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ওই আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বদলীয় রূপ লাভ করে। বুধবার সারাদিন ভগবানগোলা স্টেশানে অবস্থান বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা জানিয়ে দেন, আন্ডারপাসের নামে কোনও ভাবেই উচ্ছেদ করা যাবে না। প্রয়োজনে ওভারব্রিজ করতে হবে। সর্বস্তরের ওই আন্দোলনে নড়েচড়ে বসে রেল। স্থানীয় প্রশাসন, জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য, ভূমি উচ্ছেদ কমিটি, নাগরিক মঞ্চের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন রেলের আধিকারিকরা। ওই বৈঠকে লালগোলা-শিয়ালদহ শাখার রেলের ইঞ্জিনিয়ার অভিষেক দে’র পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালী রায়, বিডিও নাজির হোসেন, এসডিপিও  উত্তম গড়াই  সহ বিশিষ্টজনেরা।  বৃহস্পতিবারের ওই বৈঠক সিদ্ধান্ত হয়, এলাকার সাংসদ, বিধায়ক, জন প্রতিনিধি এবং কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ভূমি উচ্ছেদ কমিটির সম্পাদক আজমল হক বলেন, রেল এক তরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে উচ্ছেদের নোটিস জারি করে। কিন্তু উচ্ছেদ এবং আন্ডারপাস নির্মাণ হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হতো। এদিনের বৈঠকে আমরা অন্তত সে কথা রেলকে বোঝাতে পেরেছি।
সম্পর্কিত সংবাদ