নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নমস্তে ইন্ডিয়া।’ ডন কার্লোর মুখে ভাঙা হিন্দি শুনে অনেকেই বিস্মিত। ব্রাজিল মিডিয়া কৌতূহলী। আর খোদ আনসেলোত্তি? কেমন সারপ্রাইজ দিলাম মার্কা হাসি ঝুলিয়ে মাইক্রোফোন হাতে নিলেন ভিনিসিয়াসদের কোচ। ম্যারাথন কোচিং কেরিয়ারে তাঁর ক্যাবিনেটে মণিমুক্তোর ঝলকানি। কিন্তু ব্রাজিলের হটসিট একেবারেই অন্য। গত ২৪ বছর বিশ্বকাপ পায়নি পেলের দেশ। কোপা আমেরিকাতেও ব্যর্থ। সেলেকাওদের হারানো সাম্রাজ্য ফেরানো সম্ভব? আনসেলোত্তির জবাব, ‘দেখুন ফুটবল বদলাচ্ছে। ২০০২ এর সঙ্গে তুলনা টানা বৃথা। তবে স্বীকার করতে হবে, অন্য দেশও ফুটবলে অনেক উন্নতি করেছে।’ একটু থেমে অভিজ্ঞ কোচের সংযোজন, ‘ক্লাব দলে কোচিং করানোর সঙ্গে এর তুলনা হয় না। ব্রাজিলকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল প্রত্যাশা। কিন্তু গত বিশ্বকাপে দল ব্যর্থ হয়েছে। মেনে নিতেই হবে, সময়টা ভালো যাচ্ছে না। তবে সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে।’ সত্যিই কোচিং জীবনের সায়াহ্নে মোক্ষম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ডন কার্লো।
গত বিশ্বকাপের এক বছর আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন আনসেলোত্তি। চোটের সমস্যা ছিলই। নেইমারও আধাফিট। গ্রুপ লিগের বাধা টপকালেও নক-আউটে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হতাশা কাটাতে খোলনলচে পালটাতে চান অভিজ্ঞ কোচ। বললেন, ‘ব্রাজিলিয়ানরা ফুটবল উপভোগ করে। সেই খোলামেলা পরিবেশ ফেরাতে চাই। পাশাপাশি কমিটমেন্ট প্রয়োজন।’একঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে সফরে বেরিয়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর এবার মিশন কলকাতা। ফুটবলের মক্কা বরাবরই ব্রাজিল নিয়ে আবেগপ্রবণ। শহরের পালস বুঝেই কার্লোর মন্তব্য, ‘কলকাতার আন্তরিকতাই আলাদা। শুনেছি এখানে ক্রিকেট বেশ জনপ্রিয়। আশা করব, শনিবার প্রচুর মানুষ ম্যাচ দেখবেন।’ জানা গেল ভারতকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না ব্রাজিল কোচ। পানামা ম্যাচ দেখে হোমওয়ার্কও সারা। ভিনিসিয়াসদের অন্দরে গোলরক্ষক গুরপ্রীত ও রায়ান উইলিয়ামসের নামও আলগাভাবে শোনা যাচ্ছে। প্রতিপক্ষের কথা উঠতেই আনসেলোত্তির ভ্রু কুঁচকে গেল। বিশ্ব ফুটবল জানে ওটাই সিগন্যাল। অর্থাৎ, ম্যাচ নিয়ে সিরিয়াস অভিজ্ঞ কোচ।
অধিনায়ক মার্কুইনহোসও একই রাস্তায় হাঁটলেন। ব্যর্থতার কাটাছেঁড়ায় বেশি সময় নষ্ট করতে নারাজ ব্রাজিল ডিফেন্ডার। বললেন, ‘প্রতিপক্ষ হিসাবে ভারতকে সম্মান করি।’ নভেম্বরে আরও কিছু ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। মার্কুইনহোসের বক্তব্য, ‘জেতার অভ্যাস তৈরি করা সবচেয়ে বেশি জরুরি।’