নিউ ইয়র্ক: চোখেমুখে উদ্বেগ স্পষ্ট। চিউইংগাম চিবোচ্ছেন। মরক্কো লিড নিতেই হতাশায় ডাগ-আউটে বসে পড়লেন কার্লো আনসেলোত্তি। সেলেকাওদের হাই-প্রোফাইল কোচের বিরক্তি স্বাভাবিক। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেও পাকুয়েতা, কাসেমিরোদের একেবারেই ছন্দহীন দেখিয়েছে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পেলের দেশ। সমর্থকদের প্রবল প্রত্যাশা সাম্বা ব্রিগেডকে ঘিরে। কিন্তু রবিবার সব বিভাগেই তাদের টেক্কা দিয়েছে মরক্কো। লিগের প্রথম ম্যাচেই আনসেলোত্তির দলকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে গেল আটলাসের সিংহরা। খেলার শেষে ইতালিয়ান কোচ স্বীকার করে নিলেন, চাপের প্রেসার কুকারে ছিল দল। আনসেলোত্তির মন্তব্য, ‘ম্যাচটা কঠিন ছিল। শুরুতে গোল খেয়ে চাপে পড়ে যায় দল। গোটা প্রথমার্ধেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে ছেলেরা। বিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়।’
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আনসেলোত্তিকে কোচ করেছে ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা। অভিজ্ঞ কোচের অধীনে নতুন ব্রাজিলকে দেখতে চেয়েছিলেন অনুরাগীরা। কিন্তু প্রত্যাশার রঙিন বেলুনে পিন ফুটিয়ে দিয়েছে মরক্কো। ব্রাজিলের প্রথমসারির সংবাদপত্রেও একই ট্রেন্ড। বিশ্বকাপে এই ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ কী? প্রথম ম্যাচের পরেই প্রশ্ন উঠছে। আনসেলোত্তি বলছেন, ‘টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সবসময় কঠিন। দলের পারফরম্যান্সে আমি সম্পূর্ণ হতাশ নই। আর খুশি হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। দলে ভারসাম্যের অভাব স্পষ্ট।’ গ্রুপে ব্রাজিলের পরের প্রতিপক্ষ হাইতি। ২০ জুন ম্যাচ। তার
আগে রিকভারির জন্য কয়েকটা দিন সময় পাচ্ছেন পাকুয়েতা, রাফিনহারা। দ্রুত ভুল শোধরাতে না পারলে মুশকিল। আনসেলোত্তির বক্তব্য, ‘আত্মবিশ্বাস হারানোর ব্যাপার নেই। ফুটবলাররা জানে, সঠিক সময়ে কিভাবে জ্বলে উঠতে হয়। দল নিশ্চয়ই আরো উন্নতি করবে।’
এদিকে, মরক্কোর বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্টের দিনেই স্বস্তির খবর ব্রাজিল শিবিরে। চোট সারিয়ে সোমবারই মূল দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন নেইমার। অর্থাৎ, গ্রুপ পর্বের পরের ম্যাচে হাইতির বিরুদ্ধে খেলতে পারেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। মরক্কো ম্যাচে প্লে-মেকারের অভাবে ভুগতে হয়েছিল আনসেলোত্তি ব্রিগেডকে। নেইমার ফিরলে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলেই আশাবাদী সাম্বা অনুরাগীরা।