Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: বাবার দেহাংশ নিল ৯ বছরের মেয়ে

বাবাকে শেষ দেখেছে তিনমাস আগে। ফোনে কথা হলেও কাছে পায়নি ন’বছরের মেয়ে। শনিবার বাবার দেহাংশ নিতে এসে বাকরুদ্ধ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ব্লকের সংযুক্তা সিং।

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: বাবার দেহাংশ নিল ৯ বছরের মেয়ে
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাবাকে শেষ দেখেছে তিনমাস আগে। ফোনে কথা হলেও কাছে পায়নি ন’বছরের মেয়ে। শনিবার বাবার দেহাংশ নিতে এসে বাকরুদ্ধ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমার ব্লকের সংযুক্তা সিং। চোখমুখ থমথমে। এই বয়সে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে তা কখনও ভাবেনি। দিদা পূর্ণিমা মাইতির সঙ্গে সকালে আসে নরেন্দ্রপুর থানায়। সেখানে বারবার ফাইল থেকে বাবার ছবি বের করে দেখছিল পিতৃহারা কন্যা। সুজিত সিং সংযুক্তার বাবা। ডেকোরেটার্স সংস্থার গোডাউনে ঝলসে মারা যান তিনি। শিশুটিকে দেখে মনে হচ্ছিল অনেক কষ্টে চোখের জল আটকে রেখেছে। শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের বাড়ির লোকজন যাঁরা এদিন দেহাংশ নিতে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কনিষ্ঠতম সংযুক্তা। তারই মত কেউ দাদার হাড় নিতে এসেছিলেন। কেউ নিজের ছেলের দেহাবশেষ সংগ্রহ করতে আসেন।

Advertisement

নরেন্দ্রপুর থানায় কাগজ জমা দেওয়ার পর ১৮ জনের পরিবার কাঁটাপুকুর মর্গে যান। তবে ১৬ জনের দেহাবশেষ তুলে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়ির লোকেদের হাতে। দু’জনের ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় নতুন করে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাই তাঁদের দেহাংশ ক’দিন বাদে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। যাঁরা নিজেদের পরিজনের দেহাংশ পেলেন, তাঁদের অনেকেই তা বাড়ি নিয়ে যেতে রাজি নন। তাঁরা কেওড়াতলা ঘাটে শেষকৃত্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিন থানার বাইরে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিল ১৮ জনের পরিবার। কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন সকাল সাড়ে ছ’টায়। কেউ সাতটায়। নরেন্দ্রপুরে এসেছেন প্রিয়জনের শেষ চিহ্ন ফিরে পাওয়ার আশায়। শোক, হতাশা আর প্রতীক্ষার ভার স্পষ্ট তাঁদের চোখেমুখে। 
তমলুকের বাসিন্দা শঙ্কর জানা বলেন, ‘ছেলে বুদ্ধদেব জানা ওই আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে। সে সত্য মানতে কষ্ট হচ্ছে।’ সৌমিত্র খাঁড়া তাঁর দাদা সুব্রত খাঁড়ার দেহাংশ নিতে এসে জানান, ‘২৫ জানুয়ারি রাতে শেষ কথা হয়েছিল। স্বপ্নেও ভাবিনি দাদার সঙ্গে সেটাই শেষ কথা হয়ে থাকবে। বুকে পাথর নিয়ে এসেছি শেষ চিহ্ন নিয়ে যেতে।’ পুলিশ সূত্রে খবর, ডেথ সার্টিফিকেট পেতে আরো কয়েকদিন লাগবে। খেয়াদহ ২ নম্বর পঞ্চায়েত থেকে তা সংগ্রহ করবে নরেন্দ্রপুর থানা। তারপর মৃতদের বাড়ি এলাকার থানায় পাঠানো হবে। কিংবা তাঁদের পরিবারকে আসতে বলা হবে। ডিএনএ রিপোর্ট জমা পড়বে আদালতে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ