নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার দুপুর থেকে অল্পবিস্তর বৃষ্টি শুরু হয়েছিল কলকাতার সর্বত্র। বেলা ১টার পর থেকে ঝেঁপে বৃষ্টি নামে। পরবর্তী এক ঘণ্টায় শহরের কোথাও ৮০ মিমি (মিলিমিটার), কোথাও ৬১ মিমি বৃষ্টিপাত হয়। উত্তরের তুলনায় কলকাতার দক্ষিণ অংশে বৃষ্টির দাপট ছিল অনেকটাই বেশি। কম সময়ের মধ্যে তুমুল বৃষ্টির ফলে বেহালা থেকে বালিগঞ্জ, যাদবপুর থেকে খিদিরপুর—বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বড় রাস্তার পাশাপাশি তুলনামূলক ছোট রাস্তা এবং অলিগলিও জলে ডুবে যায়। তবে মুষলধারে বৃষ্টির সময় তো বটেই, তার পরের কয়েক ঘণ্টা গঙ্গার লকগেটগুলি খোলা থাকায় সিংহভাগ জায়গা থেকে জমা জল নেমে যায় সন্ধ্যার আগেই। তবে যোধপুর পার্ক, বেহালা ও টালিগঞ্জের কিছু কিছু জায়গার জল নামতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। পুরসভার নিকাশি বিভাগের কর্তাদের বক্তব্য, আগে কলকাতায় ঘণ্টায় ৬ মিমির বেশি বৃষ্টি হলে জল জমত। নিকাশি সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে ঘণ্টায় ১২-১৩ মিমি বৃষ্টি হলেও এখন শহরে জল জমে না। কিন্তু এদিন দুপুরে এক ঘণ্টায় যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে জল জমতই। সমস্ত পাম্পিং স্টেশন পুরোদমে কাজ করায় এবং গঙ্গার লকগেটগুলি খোলা থাকার ফলে জল নেমে গিয়েছে দ্রুত।
পুরসভার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ২টোর মধ্যে সর্বাধিক বৃষ্টি হয়েছে চেতলা লকগেট পাম্পিং স্টেশন চত্বরে (৯১ মিমি)। এর মধ্যে ৮০ মিমি বৃষ্টিই হয়েছে ১টা থেকে ২টোর মধ্যে। এরপর রয়েছে কালীঘাট। সেখানে দু’ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৭ মিমি। এর মধ্যে শেষ এক ঘণ্টাতেই হয়েছে ৭০ মিমি বৃষ্টিপাত । মোমিনপুর পাম্পিং স্টেশন চত্বরে এই দু’ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৮৩ মিমি। উত্তর কলকাতায় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ২টো—এই দু’ঘণ্টায় বেলগাছিয়ায় ৫৬ মিমি, মানিকতলায় ৫০ মিমি, দত্তবাগানে ৫৫ মিমি, উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশন চত্বরে ৪৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
কলকাতাজুড়ে এমন মুষলধারে বৃষ্টির ফলে যোধপুর পার্ক, যাদবপুর, টালিগঞ্জ, বেহালা, তারাতলা, প্রিন্স আনোয়ার শা রোড, কসবা, তপসিয়া, রাজডাঙা মেন রোড, খিদিরপুর, একবালপুর, মোমিনপুরের বিভিন্ন অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টি তুলনামূলক কম থাকলেও উত্তর কলকাতায় রাজা রামমোহন রায় সরণি, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের কিছু অংশে রাস্তাঘাট জলের নীচে চলে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টে-৫টার মধ্যে বেশিরভাগ জায়গায় জল নেমে গিয়েছে বলে দাবি পুরসভার। নিজস্ব চিত্র