Bartaman Logo
২১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ইয়ামালদের ঘিরে মাদ্রিদের রাজপথে আবেগের বিস্ফোরণ

মাদ্রিদে ইয়ামালদের বিশ্বজয়ের পর আবেগের ঢল। বিমানবন্দরে উল্লাস, রাজপথে জনসমুদ্র। কেন এই মুহূর্ত ইতিহাসে বিশেষ? বিস্তারিত পড়ুন।

ইয়ামালদের ঘিরে মাদ্রিদের রাজপথে আবেগের বিস্ফোরণ
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মাদ্রিদ: আমেরিকায় ফেরান তোরেসের গোল, পরের সেকেন্ডেই উৎসব ফেটে পড়ল মাদ্রিদের রাস্তায়। সোমবার সকালেও তা থামার নাম নেই। না এবার রাজপথে নয়! মাদ্রিদ বিমানবন্দরে। নায়করা যে বিশ্বজয় করে ফিরছেন!

Advertisement

আদোলফো সুয়ারেজ মাদ্রিদ-বারহাস বিমানবন্দরের রানওয়েতে তখন দুপুরের কড়া রোদ। সাদা রংয়ের বিমান ল্যান্ড করার খবর পেতেই অপেক্ষারত অনুরাগীরা ‘কামপেওনেস, কামপেওনেস’ স্লোগানে মুখরিত বিমানবন্দর চত্বর। বিমানের গেট খুলতেই রোদে ঝলমল করে উঠল সোনালি ট্রফি। ক্যাপ্টেন রড্রি কোলে করে ট্রফি নিয়ে বেরলেন। ওই যেমন বাবা সন্তানকে আগলে রাখেন! তাঁর পাশেই কোচ লুই ডে লা ফুয়েন্তে। এরপর দু’জনে  ট্রফি শূন্যে উঁচিয়ে ধরলেন। তারপর একে একে নেমে এলেন লামিনে ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, পেড্রিরা— কারো চোখে রাতজাগা ক্লান্তি, বা কারো মুখে এখনও লেগে গতরাতের উত্সবের রেশ। বিমানবন্দরের টারমাকে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মী আর অল্প কিছু সৌভাগ্যবান সমর্থকরা হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানাচ্ছেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এরপর বিমানের পাশে বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে ফটোশ্যুট সারলেন রড্রিরা। আসলে এই নীরব মুহূর্তটুকুই যেন শেষ বিশ্রাম ছিল। বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষা করছে অন্য এক ঝড়। ঝড়ই বটে! রড্রিরা বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল অপেক্ষারত সমর্থকরা। আনন্দে আটখানা প্রত্যেকে। কারো চোখে জল। কেউ আবার দু’হাত ওপরে তুলে লাফাতে লাফাতে গান গাইছেন। ১৬ বছরের খরা কাটার উদযাপন তো এমনই হবে।
বিমান থেকে নেমে বিশ্রামের বেশি সময় পায়নি ফুয়েন্তের ছেলেরা। অনুরাগীদের অভিবাদন গ্রহণ করার পর বিকেলে জারসুয়েলা রাজপ্রসাদে রাজপরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্প্যানিশ দল। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সেনচেজের সঙ্গে ‘চায়ে পে চর্চা।’ বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা যখন আতিথেয়তায় ব্যস্ত, তখন মাদ্রিদের রাস্তায় মানুষের ঢেউ নামতে শুরু করেছে। 
ঘড়িতে সন্ধ্যা ৭টা! লা মনক্লোয়ারের সামনে থেকে ছাড়ল হুডখোলা বাস। মুহূর্তে ফেটে পড়ল জনসমুদ্র— ফুটপাতে দাঁড়িয়ে, জানালা বা বারান্দা থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের উদ্দেশে হাত নাড়ছেন অনুরাগীরা। পালটা হাসির ঝলক দিচ্ছেন ওয়ারজাবালরাও। নিকো ও ইয়ামাল আবার তখন খুনসুটিতে ব্যস্ত। বাস চলল নির্দিষ্ট পথ ধরে। তারপর ডান বাঁক নিয়ে ঐতিহাসিক পুয়ের্তা দে আলকালার,  কালে দে মাস্তালবান পেরিয়ে গন্তব্য শেষ ঐতিহাসিক সিবেলেস প্রাসাদে। সেখানে স্টেজে উঠে রড্রি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল স্প্যানিশ অনুরাগীরা। তারপর ক্যাপ্টেনের হুংকার, ‘আমরাই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। স্পেনই সবার সেরা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ