শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কালীর পদতলে মহাদেব। এমন দৃশ্যেই অভ্যস্ত বাঙালি। কিন্তু মধ্যমগ্রামের এক প্রাচীন মন্দিরে ছবিটি অন্য। এখানে কালীর বুকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে দেবাদিদেব মহাদেব। কালীর রূপ দেখে প্রথম দর্শনেই চমক লাগে। পাঁচ দশক ধরে এই ব্যতিক্রমী রূপেই পুজো হচ্ছে দক্ষিণাকালীর। মধ্যমগ্রামের বাদু রোডের ধারে অবস্থিত এই মন্দিরের নাম মহাকাল মন্দির। পুজোর সূচনায় জড়িয়ে আশ্চর্য এক কাহিনি। এক কালবৈশাখীর ঝড়ে উড়ে আসা একটি ক্যালেন্ডারকে ঘিরে আবর্তিত হয় সে গল্প।
কথিত, প্রায় পাঁচ দশক আগে ১৯৮০ সালেরও আগে বাদু রোডের ধারে এই মন্দির চত্বর ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। জনবসতি ছিলই না প্রায়। একদিন কালবৈশাখীর ঝড়ে জঙ্গলের মধ্যে উড়ে এসে পড়ে একটি ক্যালেন্ডার। সেই ক্যালেন্ডারের ছবিই বদলে দেয় এলাকার ধর্মীয় আচরণ। ক্যালেন্ডারে ছবি, কালীর উপর দাঁড়িয়ে মহাদেব। অর্থাৎ চিরপরিচিত কালীমূর্তির ঠিক বিপরীত এক রূপ। স্থানীয়রা ক্যালেন্ডারটি যত্ন করে রাখেন। এরপর এলাকার এক ব্যক্তি স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে মহাদেব তাঁকে এই বিশেষ রূপের পুজোই শুরু করার নির্দেশ দেন। তা মেনে ক্যালেন্ডারের ছবি সামনে রেখে তৈরি হয় বেদী। শুরু হয় পুজো। ধীরে বাড়তে থাকে ভক্তদের আনাগোনা। ছোট বেদীর পুজো একসময় পরিণত হয় নিয়মিত উপাসনায়। তৈরি হয় মন্দির। ক্যালেন্ডারের ছবিতে থাকা সেই ব্যতিক্রমী রূপের আদলে নির্মিত হয় বিগ্রহ। মন্দিরের পুরোহিত অর্ঘ্য চক্রবর্তী বলেন, ‘এখানে মা দক্ষিণাকালী রূপে পূজিত হন। মায়ের রুদ্ররূপের সঙ্গে সম্পর্কিত মহাকাল ভৈরবের নাম থেকেই মন্দিরের এই নামকরণ। শিবের অপর নাম মহাকাল। মন্দিরের বিগ্রহেও তাই রয়েছে শিব ও কালীর এক ব্যতিক্রমী যুগলরূপ। ক্যালেন্ডারে মহাদেবের যে রূপ ছিল তা ছিল উগ্র। কিন্তু মূর্তি তৈরির সময় সাধারণ ভক্তদের কথা মাথায় রেখে মহাদেবের মুখে দেওয়া হয় শান্ত ও সৌম্য ভাব। সেই মূর্তি আজও মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ। কালী ও মহাদেব শুধু নন, প্রতিষ্ঠিত মনসা এবং বজরংবলীর বিগ্রহও। প্রতিদিনই নিয়ম মেনে পুজো হয়। অমাবস্যা এবং কালীপুজোয় বিশেষ আয়োজন থাকে।



