নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছিল বাস স্ট্যান্ডের। সেখানে সাধারণ যাত্রীরা দাঁড়াতেন। পাশাপাশি বয়স্কদের ভিড় জমত। আড্ডা চলত ডানলপ লাগোয়া সবেদাবাগান বাস স্ট্যান্ডে। পিডব্লুডি রোডের উপর থাকা সেই যাত্রী প্রতিক্ষালয়টি রাতারাতি নিখোঁজ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ঘটা করে উদ্বোধন করা হয়েছিল বাস স্ট্যান্ডের। সেখানে সাধারণ যাত্রীরা দাঁড়াতেন। পাশাপাশি বয়স্কদের ভিড় জমত। আড্ডা চলত ডানলপ লাগোয়া সবেদাবাগান বাস স্ট্যান্ডে। পিডব্লুডি রোডের উপর থাকা সেই যাত্রী প্রতিক্ষালয়টি রাতারাতি নিখোঁজ।
এক সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে বসে গল্প করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তা উধাও। কোনও অস্তিত্বই নেই। এরপর শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। কারা স্ট্যান্ড ভাঙল? কি উদ্দেশ্য নিয়ে ভাঙা হল? তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন। এই সময় পুরসভাও জানিয়ে দিল যে, তারা এই বিষয়ে কিছু জানে না। পূর্তদপ্তরও একইভাবে জানাল, বিষয়টি নিয়ে তারাও অন্ধকারে। পরে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার কাজ করার জন্য পূর্তদপ্তরই বাস স্ট্যান্ডটি ভেঙেছে। অনেকের অনুমান, পরে সম্ভবত আবার স্ট্যান্ড তৈরি হবে। কিন্তু পূর্তদপ্তর বলেছে, ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ডের অস্তিত্ব ছিল বলে তাদের কিছু জানা নেই। দক্ষিণেশ্বর থেকে ডানলপ মোড় পৌঁছনোর অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা হল পিডব্লুডি রোড। দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে আসার পথে ডানলপ ফ্লাইওভার শুরুর ঠিক আগেই পড়ে সবেদাবাগান স্ট্যান্ড। বেশ কয়েক বছর আগে বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে সেখানে একটি ঝাঁ চকচকে বাস স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রুটের বাস দাঁড়ায়। সম্প্রতি সেই বাস স্ট্যান্ডই হাপিস। অনেকে ভেবেছিলেন, স্ট্যান্ডের গায়ে যে অনুষ্ঠান বাড়িটি রয়েছে তারাই হয়তো তা ভেঙে দিয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলার সাগরিকা বন্দ্যোপাধ্যায় স্ট্যান্ড উধাওয়ের বিষয়টি পুরসভাকে জানিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারাও পুরসভাকে চিঠি দিয়ে বাস স্ট্যান্ড কারা ভাঙল? কি উদ্দেশে ভাঙা হয়েছে? তা জানতে চেয়েছেন। জানার পর আকাশ থেকে পড়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। তারপর তারা জানায়, ভাঙার বিষয়ে তারা কিছু জানে না। এরপর কাউন্সিলার পূর্তদপ্তরকে চিঠি দেন। পূর্তদপ্তর লিখিতভাবে জানায়, তারা এই বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে।
স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, ‘কেউ কিছু জানে না অথচ রাতারাতি আস্ত বাস স্ট্যান্ড গায়েব!’ ওই জায়গায় গিয়েও দেখা গিয়েছে, পূর্তদপ্তর রাস্তাটির খোলনলচে বদলানোর কাজ শুরু করেছে। বারাকপুর কমিশনারেটের ট্রাফিক পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার কাজ করা ঠিকাদার সংস্থা ঠিকভাবে কাজ করার সুবিধায় বাস স্ট্যান্ডটি রাতের বেলা ভেঙে ফেলে। সরিয়ে দেয়। পরে হয়ত পূর্তদপ্তর তা তৈরি করে দেবে বলে অনুমান। যদিও এদিন পূর্তদপ্তর জানিয়েছে, ওই জায়গায় বাস স্ট্যান্ড যে ছিল তা তাদের জানা নেই। কখনও বাস স্ট্যান্ড তৈরি হলেও তাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তাই কারা তৈরি করেছিল বা কেউ যদি ভেঙেও থাকে সেসব কিছুই তাদের জানা নেই।
কাউন্সিলার সাগরিকা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘রাতারাতি যাত্রী প্রতিক্ষালয় কোথায় উধাও হল তা জানতে পুরসভা ও পূর্তদপ্তরে চিঠি দিয়েছিলাম। কেউ কিছু জানে না বলে জানিয়েছে। অথচ এলাকাবাসীর প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে আমাকে।’ পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপনারায়ণ বসু বলেন, ‘ওই বাস স্ট্যান্ড কে, কি উদ্দেশে ভেঙেছে তা নিয়ে আমরাও অন্ধকারে।’ নিজস্ব চিত্র