Bartaman Logo
২৭ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দিদিমণিদের হারিয়ে শোকের আবহ ডানকুনিতে, আজ বাড়ি ফিরবে দেহ

ছত্তিশগড়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষিকা ও এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় ডানকুনিতে শোকের আবহ মঙ্গলবারও কাটেনি। তবে হুগলির শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ লেনের বাসিন্দা শিক্ষিকা মুনমুন বাগ ও তাঁর ছেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

দিদিমণিদের হারিয়ে শোকের আবহ ডানকুনিতে, আজ বাড়ি ফিরবে দেহ
  • ৮ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ছত্তিশগড়ে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় তিন শিক্ষিকা ও এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় ডানকুনিতে শোকের আবহ মঙ্গলবারও কাটেনি। তবে হুগলির শ্রীরামপুরের বিবেকানন্দ লেনের বাসিন্দা শিক্ষিকা মুনমুন বাগ ও তাঁর ছেলের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মুনমুনদেবী, মঙ্গলবার কথাবার্তাও বলেছেন। এদিকে, দুই শিক্ষিকার মরদেহ তাঁদের পূর্ব মেদিনীপুর ও কল্যাণীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশেষ ব্যবস্থা সহ পপি বর্মা ও অন্বেষা সোমের মরদেহ নিয়ে তাঁদের পরিবার রওনা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরমা মিত্র ও তাঁর নাবালিকা মেয়ের শেষকৃত্য ছত্তিশগড়েই এদিন সম্পন্ন করা হয়েছে।

Advertisement

একসঙ্গে একাধিক সহকর্মীকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন ডানকুনির শ্রীরামকৃষ্ণ বিদ্যাশ্রম উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বৈশাখী দত্তরায়। তিনি বলেন, ভাবতেই পারছি না। পুজোর আগে স্কুলের শেষ ক’টা দিনের স্মৃতি এখনও তাজা। সকলেই খুব জনপ্রিয় শিক্ষিকা ছিলেন। প্রাক্তনীরা ফোন করে, কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করছে। গভীর শোকের মধ্যেও একটাই স্বস্তি, মুনমুন বাগ ও তাঁর ছেলে সুস্থ হয়ে উঠছে। মুনমুন, পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি সুমন মুখোপাধ্যায় বলেন, আনন্দের পরিবেশ এভাবে বিষাদে বদলে যাবে ভাবতেও পারিনি। শিক্ষার্থী থেকে পরিচিত সবমহলে এখনও শোকের আবহ গাঢ়। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর তথা শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি নিজে এবং প্রশাসনের তরফে নিয়মিত ওই পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এদিন ছত্তিশগড়েই প্রয়াত দিদিমণি পরমা মিত্র ও তাঁর মেয়ের শেষকৃত্য হয়েছে। পপিদেবী ও অন্বেষাদেবীর মরদেহ তাঁর পরিবার ফিরিয়ে আনছে। তাঁরা সন্ধ্যায় রওনা হয়েছে। বুধবার দুপুরের পরে হয়তো নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছবেন। শ্রীরামপুরের শিক্ষিকা মুনমুনদেবী ও তাঁর ছেলে আগের থেকে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এই প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গেলেই ঩কেমন যেন দমবন্ধ লাগছে। স্থানীয় স্তরে শোক ও উদ্বেগের পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। অঙ্কের শিক্ষিকা মুনমুনদেবী সমাজমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন। ফলে, শ্রীরামপুর থেকে ডানকুনি, সবজায়গা থেকে উদ্বেগ আর শোকের ঝড় বয়ে যাচ্ছে সমাজমাধ্যমে। মঙ্গলবার মুনমুনদেবীর বোন মৌমিতা বাগ বলেন, দিদি একটু ভালো আছে। দিদির ছেলে অর্ণদীপও অনেকটা সুস্থ। আমার জামাইবাবু, তাঁর মা সহ অনেকেই ছত্তিশগড়ে গিয়েছেন। দিদি দ্রুত ছেলেকে নিয়ে ফিরে আসুক, সেই প্রার্থনাই করছি। দুর্গাপুজোর ছুটিতে ডানকুনি রামকৃষ্ণ বিদ্যাশ্রম উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের তিন দিদিমণি ও কলকাতার বিনোদিনী গার্লসের এক দিদিমণি তাঁদের সন্তানদের নিয়ে ছত্তিশগড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রবিবার মধ্যপ্রদেশের কানহা ফরেস্ট থেকে ফেরার পথে দিদিমণিদের এসইউভি গাড়িটির সঙ্গে লরির ধাক্কা লাগে। তাতেই তিনজন শিক্ষিকা, এক শিক্ষিকার মেয়ে ও গাড়ির চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ