সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: কয়েক বছর ধরে ক্ষুদ্র আকৃতির দুর্গা মূর্তি তৈরি করছেন ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের প্রাক্তন এক ছাত্র। তিনি পলতা শান্তিনগরের বাসিন্দা। নাম দেবপ্রসাদ মালাকার। ডাকনাম রাসু। এবছর তিনি তালগাছের পাতা দিয়ে দু’সেন্টিমিটার দুর্গামূর্তি বানালেন। এই মিনিয়েচার মূর্তিটি বারাকপুরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। মিনিয়েচার ফর্ম নিয়ে শিল্পীর গবেষণা ও কাজকারবার ২০০০ সাল থেকে চলছে। প্রতি পুজোয় ক্ষুদ্র আকৃতির দুর্গা তৈরি করেন তিনি। তাতে থাকে নতুন নতুন চমক। দেবপ্রসাদবাবু এর আগে ধানের খোসার মধ্যে প্রতিমা করেছিলেন। তা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। গতবছর মিডিয়াম ছিল আখের ছিবড়ে। মিনিয়েচার প্রতিমাগুলি তিনি বাড়িতে সাজিয়ে রাখেন। প্রদর্শন করেন। ভবিষ্যতে মিউজিয়াম করার ইচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর কাজ দেখে উৎসাহী হয়ে বিভিন্ন রকম জিনিস দিয়ে প্রতিমা তৈরি শুরু করেছেন।
ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের ফাইন আর্টসের ছাত্র দেবপ্রসাদ কচুরিপানার আঁশ দিয়ে দুর্গা বানিয়েছিলেন। এবার তাঁর মাধ্যম তালগাছের পাতা থেকে বের করা আঁশ। তৈরি করতে ৪ দিনের মতো সময় লেগেছে। দুর্গা শুধু নয়, দেবপ্রসাদ দীঘার জগন্নাথ মন্দির দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার হাফ ইঞ্চি মিনিয়েচার তৈরি করেছিলেন। তিনদিন ধরে মাটি, কাগজ ও রং দিয়ে তা বানিয়ে তুলেছিলেন। এছাড়া ১ ইঞ্চি বা তারও কম মাপের দুর্গা, কালী, মাদার টেরিজা, রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ করেছেন।
পলতার বাড়িতে বসে ছাত্র-ছাত্রীদের আঁকা শেখানোর ফাঁকে বলেন, ‘২০০০ সালে আর্ট কলেজ থেকে পাস করার পর মিনিয়েচার তৈরি শুরু করি। এই কাজ আমার নেশা। দুর্গা, কালী, রবীন্দ্রনাথ, তাজমহল, জগন্নাথ সবই মিনিয়েচার। এর আগে টুথপিক, দেশলাই কাঠি, চালের উপর অনেক মিনিয়েচার করেছি। আঁকা আমার নেশা এবং পেশাও।’
দেবব্রত আঁকার স্কুল চালান। অনেককে আঁকা শেখান। মিনিয়েচার নিয়ে তাঁর গবেষণা আছে। ইতিমধ্যে যতরকম মিনিয়েচার তিনি তৈরি করেছেন তা রাখার জন্য একটি গ্যালারি বা মিউজিয়াম তৈরির স্বপ্ন দেখেন। এর পাশাপাশি প্রতিবছরই একটি বড়ো আকারের দুর্গাপ্রতিমা তিনি তৈরি করেন। ‘এই শিল্পকর্ম ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ বৃদ্ধি করলে সবথেকে বেশি খুশি হব,’ বললেন দেবপ্রসাদ। নিজস্ব চিত্র