নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে নানা ‘অজুহাতে’ পঞ্চয়েত কার্যালয়ে আসছেন না প্রধান, উপপ্রধানসহ অধিকাংশ নির্বাচিত সদস্য। ফলে কার্যত থমকে গিয়েছে গ্রামোন্নয়নের কাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে পঞ্চয়েত আইনে বদল আনছে বিজেপি সরকার। এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পেশ হবে শনিবার। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৫ দিন পঞ্চায়েত প্রধান অফিসে অনুপস্থিত থাকলে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বসানোর ব্যবস্থা করছে রাজ্য। তবে সেক্ষেত্রে বেশ কিছু ধাপ মেনে এগতে হবে রাজ্যকে। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (দ্বিতীয় সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক বিলে বলা হয়েছে, ‘যদি প্রধান এবং উপপ্রধান ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকার কারণে জনপরিষেবা ব্যাহত হয় এবং সদস্যদের মধ্যে কেউ প্রধান ও উপপ্রধানের দায়িত্ব নিতে ইচ্ছুক না হন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একজন আধিকারিককে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করতে পারবে। ওই আধিকারিকের পদমর্যাদা এক্সটেনশন অফিসারের নীচে হবে না। পঞ্চায়েতের কাজকর্মে অচলাবস্থা কাটাতে টানা ৩০ দিনের জন্য নিযুক্ত হবেন প্রশাসক। তার মধ্যেই অচলাবস্থা কাটানোর পদক্ষেপ করবে রাজ্য। শুধু তাই নয়, প্রশাসকের কার্যকালের মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সংস্থা এবং উপ-সমিতিগুলি সাময়িকভাবে ‘কার্যবিরত’ অবস্থায় থাকবে। এই সময়কালে প্রধান, গ্রাম পঞ্চায়েত অথবা তার উপ সমিতিগুলির সমস্ত ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলী থাকবে প্রশাসকের হাতে।
একই সঙ্গে গ্রামসভা বৈঠকের নিয়মেও বেশ কিছু বদল আনা হচ্ছে। একটি পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কী কাজ হবে, তা নির্ধারণ ও অনুমোদন সম্পূর্ণ নির্ভর করে গ্রামসভার বৈঠকের উপর। এই বৈঠকে মূলত পৌরোহিত্য করেন পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁদের অনুপস্থির কারণে প্রকল্প চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন জট এড়াতেই সংশোধনী বিলে গ্রামসভার বৈঠক সংক্রান্ত সংশোধনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনী আইন হিসাবে কার্যকর হলে পঞ্চায়েত প্রধান এবং উপপ্রধান, দু’জনেই অনুপস্থিত থাকলেও সভায় উপস্থিত পঞ্চায়েতের অন্য কোনো নির্বাচিত সদস্যকে সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করে কাজ এগনো যাবে। একজনও নির্বাচিত প্রতিনিধি বৈঠকে উপস্থিত না থাকলে বা সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসকের অধীনেই থাকলে প্রশাসকই গ্রামসভার প্রবীণ সদস্যদের মধ্যে একজনকে সভাপতিত্ব করার জন্য নির্বাচিত করবেন।
বিলে আরও বলা হয়েছে, ‘প্রধান ও উপপ্রধানের অনুপস্থিতির কারণে টানা দুমাস গ্রাম পঞ্চায়েতের সভা অনুষ্ঠিত না হলে সংশ্লিষ্ট বিডিওর অনুমতি নিয়ে পঞ্চায়েতের সচিব সভা ডাকতে পারবেন। সেক্ষেত্রে এক্সটেনশন অফিসারের নীচে নন, এমন একজন আধিকারিককে বৈঠকের ‘অবজারভার’ বা পর্যবেক্ষক হিসাবে নিযুক্ত করতে হবে। এই সংশোধনীর ফলে গ্রাম পঞ্চায়েতের আর্থিক ক্ষমতাও হারাচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধানরা। এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধানদের বদলে পঞ্চায়েতের যাবতীয় অর্থ প্রদানের নির্দেশিকা স্বাক্ষর করার ক্ষমতা থাকবে এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের (ইএ) হাতে। একইভাবে প্রধান এবং ইএ’র বদলে এবার থেকে অর্থ প্রদানের নির্দেশিকা অনুযায়ী চেকে সই করবেন ইএ এবং পঞ্চায়েতের সচিব। চেক লেখার দায়িত্ব থাকবে সচিবের উপর। প্রত্যেক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাবও নিয়মিত সংশ্লিষ্ট বিডিওকে পাঠাবেন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টরা।