সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: মঙ্গলবার বিকেল গড়াতে না গড়াতেই বাড়িতে বেজে উঠেছিল শাঁখ। উমা আসার আগেই উৎসবের আমেজ বাড়িজুড়ে। ঘর আলো করে আসা নাতি ও বউমাকে উলুধ্বনি আর ধান-দূর্বা দিয়ে বরণ করেছিলেন শাশুড়ি। তিনি জানতেন, বউমা পিঙ্কি সন্তানসম্ভবা। মঙ্গলবার তিনি চেক-আপে গিয়েছিলেন। এদিকে, পিঙ্কি ছেলেকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফিরে একগাল হাসি নিয়ে বলেন, পথে টোটোর মধ্যেই প্রসব হয়ে গিয়েছে। তখন ওই অবস্থায় আশা দিদির বাড়িতে গিয়ে সাফসুতরো করেন বাচ্চাকে। সেখান থেকে ছেলেকে নিয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।
রাস্তায় প্রসবের চিত্রনাট্য সাজালেও সেই নাটক দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আমতা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার চুরি যায় এক সদ্যোজাত শিশু। এ নিয়ে তোলপাড় হয় হাসপাতাল, চলে ভাঙচুর, অবরুদ্ধ হয় রাস্তা। পুলিশ এসে তদন্তে নেমে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শিশু চুরির বিষয়ে নিশ্চিত হয়। চিহ্নিত করা হয় মহিলাকে। শেষমেশ পুলিশ আমতার মিল্কিচকের ওই বাড়িতে এলে ফাঁস হয় গোটা ঘটনা। ধরা পড়ে যায় গৃহবধূ পিঙ্কি বাগ ও শাশুড়ি অর্চনা বাগ। তাঁদের বুধবার আদালতে তোলা হলে বিচারক পিঙ্কিকে আটদিনের পুলিস হেফাজত ও শাশুড়ি অর্চনা বাগকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পিঙ্কি কেন চুরি করতে গিয়েছিলেন ওই সদ্যোজাতকে? জানা গিয়েছে, বছর ছ’য়েক আগে বিয়ে হয়েছিল পিঙ্কির। কিন্তু এতদিন তাঁর কোনও সন্তান হয়নি। গত জানুয়ারি মাসে তিনি গর্ভবতী হন। তারপর চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত খাওয়াদাওয়া, শারীরিক পরীক্ষা, আশাকর্মীর কাছে যাওয়া— সবই ঠিকঠাক চলছিল। মাসখানেক আগে গর্ভপাত হয়ে যায় পিঙ্কির। কিন্তু সে খবর চেপে গিয়েছিলেন তিনি। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়স্বজন সকলেই জানতেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মা হতে চলেছেন পিঙ্কি। সেই ধারণা যাতে না ভাঙে, তারজন্য আশাকর্মীর বাড়ি যাওয়ার নাম করে তিনি প্রায়ই বাড়ির বাইরে বেরতেন। সূত্রের খবর, সোমবার তিনি আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে যখন গিয়েছিলেন, তখন তাঁর চোখে পড়ে ওই সদ্যোজাত। তখনই চুরি করার ফন্দি আঁটেন তিনি। সেইমতো মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি করে বাড়িতে নিয়ে আসেন পিঙ্কি। এদিন আদালতে যাওয়ার সময় পিঙ্কি জানান, গর্ভপাত হয়ে যাওয়ার পর মাথা ঠিক রাখতে পারিনি। শিশুটি দিদিমার কোলে ছিল। দিদিমা ওই সদ্যোজাতের কার্ড করানোর জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি শিশুটিকে ধরার নাম করে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে টোটো ধরে সোজা বাড়িতে চলে আসেন। বাড়ি ফিরে সবাইকে বলেন, টোটোয় প্রসব হয়ে গিয়েছে।
বউমার এই কুর্কীতির কথা জানতেন না বলে দাবি করেছেন শাশুড়ি। তিনি বলেন, বুধবার ওর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। তাই মঙ্গলবার সবুজ কার্ড করানোর জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। দুপুরে আশা দিদি ফোন করে তাঁর বাড়িতে যেতে বলেন। সেখানে গেলে জানতে পারি, টোটোয় প্রসবের কথা। এরপর আমি নাতি ও বউমাকে নিয়ে বাড়িতে আসি। পরে পুলিশ আসার পর গোটা বিষয়টি পরিষ্কার হয়। বউমা কেন এমন করল, বুঝতে পারছি না।