Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

আমেরিকায় মাঝ আকাশে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা সেনা কপ্টারের, মৃত ৬৭

আমেরিকায় মাঝ আকাশে বিমানের সঙ্গে ধাক্কা সেনা কপ্টারের, মৃত ৬৭
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ওয়াশিংটন: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা আমেরিকায়। ওয়াশিংটনে মাঝ আকাশে মার্কিন সেনার হেলিকপ্টারের সঙ্গে ধাক্কা যাত্রীবাহী বিমানের। পাইলট ও কর্মী সহ মোট ৬৪ জনকে নিয়ে পোটোম্যাক নদীতে আছড়ে পড়ে বিমান। সেনার ব্ল্যাক হল হেলিকপ্টারটিও উল্টো হয়ে নদীতে পড়ে। বুধবার স্থানীয় সময় রাত ন’টা নাগাদ এই দুর্ঘটনায় বিমান ও কপ্টারের কোনও যাত্রীই আর বেঁচে নেই। উদ্ধারকাজ চলাকালেই একথা জানিয়েছেন দলকলের এক আধিকারিক। এখনও পর্যন্ত ২৮টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 
Advertisement
দুর্ঘটনার পর থেকেই চলছে উদ্ধারকাজ। ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মিউরিয়েল বাউসার বলেন, ‘এই মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করাই লক্ষ্য। এর বেশি এখন কিছু বলা সম্ভব নয়।’ মার্কিন সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণ চলাকালেই ব্লক হক কপ্টারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে বিমানের। সংঘর্ষের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত করছে ফেডেরাল এভিয়েশন অথরিটি ও ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফ্টি বোর্ড। দুর্ঘটনার পরেই ওয়াশিংটন বিমানবন্দরে উড়ান ও অবতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কানসাসের উইচিটা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৫৩৪২। কিন্তু ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগন বিমানবন্দরে অবতরণের কয়েক মিনিট আগেই বিপত্তি। ভার্জিনিয়ার ফোর্ট বেলভয়ের দিক থেকে উড়ে আসা সেনার কপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বম্বার্ডিয়ার সিআরজে৭০০ বিমানটির। এরপরই পোটোম্যাক নদীতে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে আছড়ে পড়ে বিমান। কপ্টারও পড়ে যায় নদীতে। এই ভয়াবহ ঘটনার পরই জোরকদমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আমেরিকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে। প্রবল ঠাণ্ডায় উদ্ধার কাজ চালাতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। একাধিক উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।  ওয়াশিংটন দমকল বিভাগের প্রধান জন এ ডনেলি আগেই জানিয়েছিলেন, ‘ঠান্ডা, বরফ, ঘোলা জল আর ঝোড়ো হাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’ সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, আকাশ থেকে যেন  আগুনের গোলা নদীতে গিয়ে পড়ছে।
দুর্ঘটনাস্থলের পাঁচ কিমি দূরেই হোয়াইট হাউস ও ক্যাপিটল হিল। তাই সেখানে আকাশপথে সর্বদা কড়া নজরদারি চলে। তা সত্ত্বেও কীভাবে মাঝ আকাশে বিমান-কপ্টারের এমন সংঘর্ষ হল? ঘটনায় সেনার চপারকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে উদ্ধারকারীদের তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘রাতের আকাশ স্পষ্ট ছিল। বিমানের আলো জ্বলছিল। হেলিকপ্টারটি উপরে উঠে যেতেই পারত। নীচে নামতে বা ঘুরেও যেতে পারত। সেটা করল না কেন? কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে কেন চপারটিকে সঠিক নির্দেশ দেওয়া হল না?’ জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের ৩০ সেকেন্ড আগে হেলিকপ্টারটিকে বার্তা পাঠিয়েছিল কন্ট্রোল টাওয়ার। জানতে চাওয়া হয়েছিল, সামনে কোনও বিমান দেখতে পাওয়া যাচ্ছে কি না। তার কিছুক্ষণ পরেই চপারটিকে বিমানের পিছনে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই বার্তার আর কোনও জবাব আসেনি কন্ট্রোল টাওয়ারে। 
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে বিশ্বজয়ী ফিগার স্কেটিং দম্পতি এভগেনিয়া শিশকোভা ও ভাদিম নাউমোভ সহ কয়েকজন রুশ যাত্রী। এব্যাপারে  ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বলেন, ‘আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিমানটিতে বেশ কয়েকজন রুশ নাগরিক ছিলেন। অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সমবেদনা জানাচ্ছি।’ এছাড়াও ছিলেন মার্কিন ফিগার স্কেটিং দলের সদস্যরাও।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ