Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

মহাপ্রভুর অনবদ্যরূপ, অনুপম গুণ, সুচিশুদ্ধ চরিত্র ও অনির্বচনীয় মাধুর্যে সে যুগের প্রত্যেকটি মানুষ আকৃষ্ট হইয়াছিল। তাঁহার স্পর্শে ক্রূর শ্বাপদও হিংসা ভুলিয়াছিল।

অমৃতকথা
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মহাপ্রভুর মহাজাতি গঠন

Advertisement

মহাপ্রভুর অনবদ্যরূপ, অনুপম গুণ, সুচিশুদ্ধ চরিত্র ও অনির্বচনীয় মাধুর্যে সে যুগের প্রত্যেকটি মানুষ আকৃষ্ট হইয়াছিল। তাঁহার স্পর্শে ক্রূর শ্বাপদও হিংসা ভুলিয়াছিল। দুর্বৃত্ত, পাষণ্ড, দস্যু ও লম্পট বহু ব্যক্তি তাঁহার সংস্পর্শে ধর্মাত্মা হইল। সমাজের সকল আত্মিক দৈন্য ও নীচতার বেদনা তিনি দূরীভূত করিলেন এবং বৈষম্যছিন্ন অগণিত নরনারীকে এক মহাসাম্যের ভূমিকায় উন্নীত করিতে প্রভূত যত্ন করিলেন। অশান্তির হাহাকারে ব্যাকুল জীবকুলকে ডাকিয়া ডাকিয়া থাকিয়া থাকিয়া শাশ্বত শান্তির সন্ধান দিলেন। তিনি অবতীর্ণ হইয়াছিলেন নদীয়ায় কিন্তু তিনি সমগ্র বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের এবং সমগ্র জগতের সর্ব মানবের। বিশ্ব পৃথিবীর ইতিহাসে এমন একটি মহাপ্রাণ মহাপুরুষের আর সন্ধান নাই। যাঁহাকে সেই যুগে আপামর সকলে রাজা প্রজা ধনী দরিদ্র উচ্চবর্ণ নিম্নবর্ণ অন্ত্যজ পণ্ডিত মূর্খ পুরুষ নারী সকলেই আন্তরিক ভালোবাসিয়াছে এবং তাঁহাকে পরম হিতৈষী ভাবিয়া তাঁহার শিক্ষা মস্তকে ধারণ করিয়াছে। মহাপ্রভু তৎকালে প্রচলিত হিন্দুর বর্ণাশ্রম বা মুসলমানের বা অন্য জাতির কোনও ধর্মের নিন্দা করেন নাই বা কাহাকেও ধর্মান্তরিত করার জন্য কখনও চেষ্টা করেন নাই। কিন্তু তিনি এমন এক বিশুদ্ধ ও উদার পরমধর্ম বা আত্মধর্মের বাণী প্রচার করিয়াছেন যাহার মধ্যে হিন্দুর বর্ণাশ্রমী, অন্ত্যজ, মুসলমান, খৃষ্টান, বৌদ্ধ, শিখ এবং অন্যান্য সকল ধর্মাবলম্বীর স্থান আছে এবং কাহারও প্রত্যাখ্যান নাই। যে ধর্মের মধ্যে সকল আত্মার অধিকার আছে এবং যাহা বর্ণাশ্রমাদি সকল অনাত্মধর্ম বা নৈমিত্তিকধর্মের উপর বিরাজমান তাহাই নির্গুণ ও নিত্য আত্মধর্ম। তাহা জীবমাত্রেই নিত্যধর্ম। মহাপ্রভু সেই বিমল প্রেমধর্মের প্রতি মানবজাতির সকল ধর্মাবলম্বীরই দৃষ্টি আকর্ষণ করিলেন এবং সহজ সরলভাবে এক অখণ্ড মানব মহাজাতি স্থায়ীভাবে গঠনের উদ্বোধন করিয়া গেলেন, যাহা ইতিপূর্বে পৃথিবীতে অন্যকোনও মহাপুরুষ করেন নাই। তাঁহার শিক্ষার মধ্যে আছে নীতি ও দৈবীসম্পদের শিক্ষালাভসহ বিশুদ্ধ ঈশ্বরভক্তির উপদেশ। সংযম সহিষ্ণুতা বিনয় প্রভৃতি নীতিধর্মসহ ভক্তি ও সত্যধর্মের অপূর্ব সমন্বয়ের এইরূপ উদার বাণী, এই মহাদান, এইরূপ ঈশ্বরপ্রেম ভিত্তিক স্থায়ী ও আন্তরিক বিশ্বজীবের প্রতি প্রেমের বিতরণ, পৃথিবীর ধর্মেতিহাসে ইহাই সর্বপ্রথম। মহাপ্রভু প্রবর্তিত এই প্রেমধর্মই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম, যাহাতে নাই কোনও সঙ্কীর্ণতা, কোনও জাতীয় গণ্ডি, কোনও উচ্চ নীচ ভেদ।     
পণ্ডিতপ্রবর জ্যোতির্ময় নন্দের ‘জ্যোতির্ময় রচনাঞ্জলি’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ