Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

অমৃতকথা

অমৃতকথা
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

একটি অলৌকিক কৃপার ঘটনা ঘটেছিল শ্রীঠাকুরের ভগ্নী রেণুমা ও ভগ্নীপতি রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠপুত্র কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনে। কেদারনাথের সহধর্মিণী স্নিগ্ধা মা একদিন হঠাৎ একটা অশুভ স্বপ্ন দেখেন—কেদারনাথের যেন পরলোকগমন করছেন এরকমই আশয় সেই স্বপ্নের। কেদারনাথের বয়স তখন মাত্র ৩২ বৎসর। শঙ্কিত হৃদয়ে স্নিগ্ধা মা ছুটলেন বরানগরের আশ্রমে শ্রীঠাকুরের কাছে।

Advertisement

শ্রীঠাকুর স্বপ্ন শুনে বললেন—যা দেখেছো তা মিথ্যে নয়, ওর ফাঁড়া আছে। তুমি আজ রাত্রি ১টা থেকে ৩টা পর্য্যন্ত রোজ ওর নামে জপ করবে। স্নিগ্ধা মা ঠাকুরের আদেশ শিরোধার্য করে সেদিন থেকেই সংকল্প করে যথাসময়ে জপ শুরু করে দিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে ওইভাবে জপ চলছে। সেদিন রাত্রে নির্ধারিত সময়ে জেগে বসে জপ করতে করতে হঠাৎ দেখেন জানলাতে কে একজন দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমে ভাবলেন হয়তো শাশুড়ী মাতা এসেছে। তার একটু পরেই একটা বিকট আওয়াজ হ’ল। চমকে তাকাতেই দেখেন একটা সাদা মত ছায়া শরীর যেন জানলা থেকে সরে গেল। এবার প্রচণ্ড ভয় পেলেন স্নিগ্ধা মা। বুকটা ছাঁত করে উঠতেই জপ বন্ধ হয়ে গেল। জোর করে চেষ্টা করেও জপ হচ্ছে না। তাড়াতাড়ি বিছানার কাছে এসে দেখেন কেদারনাথ অস্থির হয়ে ছটফট করছেন, আর অস্বস্তিতে এপাশ ওপাশ করছেন। তখন একটু সম্বিৎ ফিরে এসেছে স্নিগ্ধা মার। স্বামীকে স্পর্শ করে জপ শুরু করলেন। রাতটা কেটে গেল। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কেদারনাথ বললেন, ‘আমার শরীরটা ভাল লাগছে না। কিন্তু ড্রাইভার আসেনি, তাই পাঞ্চকে স্কুলে দিয়ে আসতে হবে।’ স্নিগ্ধা মা চিন্তিত মনে চলে গেলেন পূজার ঘরে। কেদারনাথ বেশ একটু দেরী করে বাড়ি ফিরে এলেন। বললেন, রাস্তায় ফেরার পথে গাড়ীতে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। যথারীতি ডাক্তারবাবু এসে ই. সি. জি. করলেন এবং জানালেন ই. সি. জি. রিপোর্ট খুবই খারাপ। শোনামাত্র স্নিগ্ধা মা বরানগর আশ্রমে ফোন করে ঠাকুরকে সব জানালেন। এদিকে কেদারনাথের অবস্থা ক্রমশঃ খারাপের দিকে যেতে লাগলো। ডাক্তারবাবু তো আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন রোগীকে ভাল করে তুলতে। টানাপোড়েন চলছে, এমন সময় হঠাৎ আশ্রম থেকে ফোন এল—ঠাকুর এই মুহূর্তে স্নিগ্ধা মাকে আশ্রমে যেতে বলেছেন। এদিকে রোগীর বিষম অবস্থা, ওদিকে ঠাকুরের ডাক। খানিক বিভ্রান্তি কাটিয়ে স্নিগ্ধা মা ঐ অবস্থায় গাড়ী করে অতি শীঘ্র পৌঁছে গেলেন আশ্রম।গিয়ে দেখেন শ্রীঠাকুর একটা টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে বই পড়ছেন। স্নিগ্ধা মা গিয়ে প্রণাম করতেই চোখ মেলে তাকিয়ে আদেশ করলেন—‘হোম হচ্ছে, বুকের রক্ত দিয়ে হোমে আহুতি দিয়ে মায়ের কাছে যা চাইবার চেয়ে নাও। ঠাকুরের জলদ গম্ভীর কণ্ঠ নিঃসৃত আদেশ মতই স্নিগ্ধা মা বুকের রক্ত দিয়ে আহুতি দিলেন হোমে আর মা ভবতারিণীর কাছে চাইলেন স্বামীর প্রাণভিক্ষা। ঠাকুরকে প্রণাম করে ফিরে আসার সময় ঠাকুর গম্ভীর স্বরে বললেন—‘বাড়ী ফিরে যাও। সারারাত জেগে ওর মাথার কাছে বসে জপ করবে।’
স্বামী মৃগানন্দের ‘অলৌকিক কৃপাময় সত্যানন্দ’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ