Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

মন

মন
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

“জাগ্রৎ-স্বপ্ন-সুষুপ্ত্যাদি চৈতন্যং যদ্ প্রকাশতে।
তদ্ ব্রহ্মাঽমিতি জ্ঞাত্বা সর্ববন্ধৈঃ প্রমুচ্যতে।।”
মানুষের মনের চারটে স্তর—জাগ্রৎ, স্বপ্ন, সুষুপ্তি ও তুরীয়। যখন চেতন মন পুরোপুরি সচেতন ও সক্রিয় সেটা মনের জাগ্রৎ অবস্থা। আমরা সবাই এই জাগ্রৎ অবস্থায় বেশীর ভাগ সময় কাটাই। যখন চেতন মান সচেতন ও সক্রিয় নয়, কিন্তু অবচেতন মন সজাগ ও কোন কিছুর দ্রষ্টা তাকে বলি স্বপ্ন বা dream। যেখানে চেতন ও অবচেতন দুই-ই নিষ্ক্রিয় চলে যায় তাকে বলে সুষুপ্তির অবস্থা। আর যেখানে চেতন, অবচেতন ও অচেতন—মনের এই তিন অবস্থাই নিষ্ক্রিয় থাকে ও চিতিশক্তিতে সমাহিত থাকে সেখানে তাকে মনের তুরীয়াবস্থা বলা হয়।
জাগ্রৎ অবস্থা কাকে বলে? জীবাত্মা কী? জীবের মানসপটে পরমাত্মার প্রতিফলনকে বলা হয় জীবাত্মা। যথার্থ বিচারে একমাত্র পরমাত্মাই আত্মা পদবাচ্য। জীবাত্মা হ’ল এই পরমাত্মার প্রতিফলন মাত্র। তাই প্রায়শঃই বলা হয়ে থাকেঃ
“যথা দর্পণাভাব আভাসহানৌ মুখং বিদ্যতে কল্পনাহীনমেকম্।
তথা ধীর্বিয়োগে নিরাভাসকো যঃ সঃ নিত্যোপলব্ধিঃ স্বরূপো ঽয়মাত্মা।।”
ধর, কারো একটা মুখ বা একটা ফুল—একটা লাল টুকটুকে ফুল। চারদিকে সাজানো রয়েছে কতকগুলো আর্শী। সেই একটা মুখ বা একটা লাল ফুল অতগুলো আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে অতগুলো ফুল বা মুখের রূপ নিয়েছে। আয়নার স্বভাব বা স্বচ্ছতার মাত্রা অনুযায়ী প্রতিফলিত মুখ বা ফুলের ছবি ফুটে উঠবে। সবগুলি প্রতিফলন ঠিক একই রকমের হবে না। প্রতিফলিত ছবিগুলো কেমন হবে তা নির্ভর করবে আয়নাগুলো স্বচ্ছতার ওপর। একটাই মুখ বিভিন্ন প্রতিফলিত হয়ে নানান মুখের রূপ নেবে। অনুরূপভাবে পরমপুরুষ বা চিতিশক্তি বা আদিকারণ অজস্র মানসমুকুরে প্রতিফলিত হয়ে ওঠে।
সকল জীবিত সত্তার, সকল প্রাণীরই একটা করে মন আছে। সেই মন কোথাও অবিকশিত, কোথাও বিকশিত, কোথাও অতি বিকশিত। অর্থাৎ যেখানে প্রাণ আছে, যেখানে প্রতিফলন আছে সেখানে মন থাকবেই। আর যেখানে মন আছে সেখানে জীবাত্মা থাকবেই। মনের ওপর প্রতিফলিত অণুচৈতন্যই জীবাত্মা আর মূল আত্মা বা জীবের মানসপটে প্রতিফলিত তার নাম প্রত্যগাত্মা। প্রতিফলন অংশটুকুই জীবাত্মা আর মৌলিক অংশটুকু প্রত্যগাত্মা। প্রত্যগাত্মা বস্তুতঃ পরমাত্মার সঙ্গে অভিন্ন, জীবাত্মা পরমাত্মা নয়—পরমাত্মার প্রতিফলন।
“মুখং বিদ্যতে কল্পনাহীনমেকং”। মুখের সামনে থেকে আয়নাগুলোকে যখন সরিয়ে নেওয়া হয় তখনও মূল মুখটা যথাপূর্বং থেকে যায়—তার কোন প্রতিফলন থাকে না। ঠিক তেমনি যখন সকল মনগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয় তখন প্রত্যগাত্মা এক অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে থেকেই যান, কিন্তু জীবাত্মা বলে কিছু থাকছে না।
“ধীর্বিয়োগে নিরাভাসকো যঃ”। অর্থাৎ মন না থাকায় পরমাত্মার প্রতিফলন ঘটতে পারছে না। “সঃ নিত্যোপলব্ধিঃ স্বরূপোঽয়মাত্মা”। তিনিই সর্বসত্তার, সর্বজীবের উপাস্য, তিনিই হলেন চরম ও পরম চিতিশক্তি।

Advertisement

শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তির ‘আনন্দ বচনামৃতম্’ (৩য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ