Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

শ্রীশ্রীঠাকুর

শ্রীশ্রীঠাকুর
  • ১৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

চৈতন্যদেবের সংকীর্তন দলের মধ্যে শ্রীশ্রীঠাকুর যাঁদের দেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখনীয় ব্যক্তি হলেন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃতকার শ্রীম বা মহেন্দ্র গুপ্ত, যাকে বলা হতো ‘ছেলেধরা মাস্টার’। রাখাল, বাবুরাম, সুবোধ, পূর্ণ, তেজচন্দ্র, পল্টু, ক্ষীরোদ, নারায়ণ প্রভৃতি ঠাকুরের অন্তরঙ্গ ভক্ত এই মাস্টারমহাশয়েরই ছাত্র ছিলেন। শ্রীশ্রীঠাকুর এই মাস্টার মহাশয়কে ‘ইংলিশম্যান’ বলতেন। শ্রীমকে দক্ষিণেশ্বরে ঘন ঘন আসা যাওয়া করতে দেখে ঠাকুর একদিন বলেছিলেন, “এর মধ্যে (নিজের দেহ দেখিয়ে) কী একটা আছে যার টানে ইংলিশম্যানরা (ইংরেজী শিক্ষিতেরা) পর্যন্ত ছুটে আসে।” তাঁর সম্বন্ধে শ্রীশ্রীঠাকুরের কয়েকটি উক্তি—“তোমার এখানকার প্রতি এত টান কেন? কলকাতায় অসংখ্য লোকের বাস, তাদের কারও প্রীতি হলো না, তোমার হলো কেন? এর কারণ জন্মান্তরের সংস্কার …দেখ, তোমার ঘর, তুমি কে, তোমার অন্তর বাহির, তোমার আগেকার কথা (চৈতন্যাবতারের), তোমার পরে কি হবে—এসব তো আমি জানি… সাদা চোখে গৌরাঙ্গের সাঙ্গোপাঙ্গ সব দেখেছিলাম—তার মধ্যে তোমায়ও যেন দেখেছিলাম; তোমায় চিনেছি—তোমার চৈতন্য-ভাগবত পড়া শুনে—তুমি আপনার জন, এক সত্তা—যেমন পিতা আর পুত্র।” 
মাস্টার মহাশয়ও শ্রীশ্রীঠাকুর সম্বন্ধে তাঁর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃতে অনেক জায়গায় অনেক মন্তব্য করেছেন। দু-একটা এখানে উল্লেখযোগ্য: “আপনাকে ঈশ্বর স্বয়ং হাতে গড়েছেন। অন্য লোকেদের কলে ফেলে তয়ের করেছেন। —যেন আইন অনুসারে সব সৃষ্টি হচ্ছে। আমার মনে হয় যীশুখ্রীস্ট, চৈতন্য ও আপনি এক।” আর একদিন সংসার-ত্যাগ চিন্তায় মগ্ন মাস্টার মহাশয়কে লক্ষ্য করে শ্রীশ্রীঠাকুর বলেছিলেন, “যতদিন তুমি এখানে আসনি, ততদিন তুমি আত্মবিস্মৃত ছিলে। এখন তুমি নিজেকে জানতে পারবে। ভগবানের বাণী যারা প্রচার করবে, তাদের তিনি একটু বন্ধন দিয়ে সংসারে রাখেন, তা না হলে তাঁর কথা বলবে কারা? সেইজন্য মা তোমাকে সংসারে রেখেছেন।”
শ্রীশ্রীঠাকুরের আর এক বিশেষ ভাবের লীলাসঙ্গী শ্রীযুক্ত গিরিশচন্দ্র ঘোষ। শ্রীশ্রীকালীর প্রধান অষ্ট ভৈরব থাকে, গিরিশ তাদের মধ্যে একজন। দক্ষিণেশ্বরে মাকালীর মন্দিরে ভাবসমাধিতে শ্রীশ্রীঠাকুর গিরিশ আসবার আগেই তাকে দেখেছিলেন। ঠাকুরকে ধরে গিরিশের জীবন যেমন মহত্ত্ব লাভ করেছিল, আবার তেমনি গিরিশকে অবলম্বন করে শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ লীলাও বহু জীবকল্যাণার্থে অপূর্বভাবে জগতে প্রকাশ পেয়েছিল। গিরিশের জীবন ভাল বুঝতে গেলে যেমন শ্রীরামকৃষ্ণকে বাদ দেওয়া চলে না, তেমনি শ্রীরামকৃষ্ণের অপূর্ব লীলা বুঝতে গেলে গিরিশকেও বাদ দেওয়া চলে না। গিরিশের বিশৃঙ্খল জীবন, নাট্য জগতের জীবন এবং ‘পাঁচ সিকি পাঁচ আনা’ বিশ্বাস—এই সবই শ্রীশ্রীঠাকুরের আশ্রয়ে আসার মূল ভিত্তি হয়েছিল। 

Advertisement


স্বামী সৎপ্রভানন্দের ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ও রঙের গামলা’ থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ