Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমার তো অ্যাকাউন্ট নেই, টাকাও নেই শুনেই আশীর্বাদ প্রার্থনা, পাল্টা প্রতারণা না করার শর্ত

আমার তো অ্যাকাউন্ট নেই, টাকাও নেই শুনেই আশীর্বাদ প্রার্থনা, পাল্টা প্রতারণা না করার শর্ত
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, পালিতপুর: সাধুকে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফন্দি এঁটে ফাঁপরে পড়ল প্রতারকরাই। কানাকড়িও না পেয়ে আশীর্বাদ নিয়েই ফোন কাটল তারা। সাধুর থেকে পেলেন শুধরে যাওয়ার পাঠ। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমানের পালিতপুরের একটি আশ্রমে থাকেন ওই সাধু। সাধারণরত, কোনও ফোন রিসিভ করেই ওই সাধু বলে ওঠেন, ‘ওম, নমো শিবায়। বাবা তোমার মঙ্গল হোক।’ প্রত্যুত্তরে ফোনের ওপারে থাকা লোকজনরা তাঁকে প্রণাম জানান। কিন্তু এদিন তেমনটা হলে না। ফোনের ওপার থেকে কর্কশ কণ্ঠ ভেসে উঠল। নিজেকে পুলিস পরিচয় দিয়ে ওপার থেকে বলা হয়, আপনার নামে মুম্বইয়ের একটি থানায় ১৭টি কেস রয়েছে। আপনাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হল। দু’ঘণ্টা আপনার ফোন সহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হবে। আপনি ভিডিও কলে থাকবেন। কোথাও যাবেন না।’
এমন কথা শুনে সাধুর তো আকাশ থেকে পড়ার উপক্রম। তিনি কিছুটা হতভম্ব হয়েই বলেন, বাবা তুমি কে? আমি কোনও দিন কারও ক্ষতি করিনি। কোনও অন্যায় কাজের সঙ্গেও যুক্ত হইনি। আমার নামে কী করে এতগুলি কেস হল? পাল্টা ফোনের ওপার থেকে জানতে চাওয়া হয়, ‘আপনার কতগুলি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে? কত সম্পত্তি রয়েছে? যে ঘরে থাকেন সেটা ঘুরিয়ে দেখান’। ওপারে থাকা ‘পুলিস আধিকারিকের’ কথা মতো তিনি চারদিক ঘুরিয়ে দেখাতে থাকেন। হাঁটতে হাঁটতে বলেন, ‘আমার একটাও অ্যাকাউন্ট নেই। কোনও সম্পত্তি নেই। তবে খাবার অভাব হয় না। ভক্তরা নিজেরাই সহযোগিতা করেন। এই কথা শুনে কিছুটা থতমত খেয়ে যান ‘পুলিস আধিকারিক’। তারা বুঝতে পারে সাধুর থেকে কিছুই মিলবে না। তারপরেই সে বলতে থাকে, ‘ঠিক আছে। আপনাকে কিছু করতে হবে না। শুধু আশীর্বাদ করুন’। 
সাধুও প্রতারককে আশীর্বাদ করে বলেন, ‘তোমার শুভবুদ্ধির উদয় হোক’। তারপর আর ফোন আসেনি। ওই সাধু বলেন, ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি প্রথমে ধমকের সুরে কথা বলছিল। কিন্তু আমার সম্পর্কে সব কিছু জানার পর ওর আচরণ বদলে যায়। সুরও নরম হয়ে যায়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারকদের নয়া হাতিয়ার ডিজিটাল অ্যারেস্ট। তারা একটি ঘর থানার মতো করে রেখেছে। সেখানে পুলিসের পোশাক পরে প্রতারকরা বসে থাকে। ভিডিও কল করলে পুলিসের পোশাক পরা ব্যক্তিকেই প্রথমে দেখা যায়। তা দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে যান। অনেকেই প্রতারকদের জালে জড়িয়ে মোটা অঙ্কের টাকা খুইয়েছেন। জনগণকে সচেতন করতে কেন্দ্রীয় সরকার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নিয়ে লাগাতার প্রচার করছে। তারপরও অনেকেই তাদের ফাঁদে পড়ছেন। এদিন সাধুকেই তারা জালে জড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। সাধু তাকে, ভালো পথে ফেরার পাঠ দেন। তাতে ফাঁপড়ে পড়ে যায় প্রতারক। তড়িঘড়ি ফোন কেটে দিয়ে হাঁফ ছাড়ে। পরে সাধুর মোবাইল থেকে সেই নম্বরে ঘুরিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও সে রিসিভ করেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ