Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল প্রকল্পে দুর্নীতি, তদন্ত দাবি আমলাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের

নেই রির্জাভার, নেই কল। পানীয় জল প্রকল্পে শুধুমাত্র সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল ভরতপুর ১ ব্লকের আমলাই পঞ্চায়েতে

জল প্রকল্পে দুর্নীতি, তদন্ত দাবি আমলাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের
  • ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: নেই রির্জাভার, নেই কল। পানীয় জল প্রকল্পে শুধুমাত্র সাব মার্সিবল পাম্প বসিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল ভরতপুর ১ ব্লকের আমলাই পঞ্চায়েতে। সেখানকার ১৯টি সংসদেই একই অবস্থা বলে স্থানীয়দের দাবি। অধিকাংশ প্রকল্পই অকেজো হয়ে রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এ নিয়ে বাসিন্দারা তদন্তের দাবি করছেন। ওই পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের বিধানসভা ভোটের আগে তৎকালীন রাজ্য সরকার প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করেছিল উন্নয়নমূলক কাজের জন্য। সেইসময় পঞ্চায়েত এলাকার প্রতিটি সংসদে একটি করে পানীয় জল প্রকল্প তৈরি হয়। যেগুলির প্রতিটির জন্য বরাদ্দ হয়েছিল প্রায় ৮৯ হাজার টাকা। ওই পঞ্চায়েতের এক কর্মী বলেন, প্রকল্পে ছিল, একটি সাব মার্সিবলের মাধ্যমে ভূগর্ভের জল উঠিয়ে তা প্লাস্টিকের রির্জাভারে জমা রাখা হবে। তারপর ওই জল কলের মাধ্যমে বাসিন্দারা ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র সাব মার্সিবল পাম্প বসানোর পর আর কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আমলাই গ্রামের কুঞ্জপাড়ায় গিয়ে দেখা গিয়েছে, একেবারে মাঠের দিকে রয়েছে ওই জল প্রকল্পটি। সেখানে শুধুমাত্র মাটি খুঁড়ে সাব মার্শিবল পাম্প বসানো রয়েছে। নেই কোনো রির্জাভার, নেই কোন কল। পাম্প চালানোর জন্য বিদ্যুতের স্টার্টারটিও খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা অন্যান্য এলাকাতেও রয়েছে বলে বাসিন্দাদের দাবি। গৌরীনগর গ্রামের বাসিন্দা অনুকুল ঘোষ বলেন, সাব মার্সিবল বসানোর ২০ দিনের মাথাতেই অকেজো যায়। এখনও তা মেরামত করা হয়নি। নেই রির্জাভার। খয়রার বাসিন্দা সুব্রত ঘোষ বলেন, ঠিকাদার একেবারে ফাঁকি দিয়ে টাকা তুলে নিয়ে গিয়েছে। জল প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই খারাপ হয়ে গেল। ওই পঞ্চায়েতের বিজেপি সদস্য বন্দনা দে বলেন, এখানকার প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়ায় সমাধান প্রকল্পে একটি করে জল প্রকল্প তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সবকটি অসম্পূর্ণ রয়েছে। শুধুমাত্র সাব মার্সিবল বসিয়ে প্রকল্পের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ইমেল করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমলাই পঞ্চায়েত প্রধান গণেশচন্দ্র দে বলেন, সবকটি জল প্রকল্প আমাদের পঞ্চায়েত থেকে করা হয়নি। হয়তো দু’-একটি করা হতে পারে। মনে হয়, এই প্রকল্প ভরতপুর ১ বিডিও অফিস থেকে করা হয়েছিল। এবিষয়ে ভরতপুর ১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওই প্রকল্পে এক লক্ষ টাকার কম বরাদ্দের কাজগুলি পঞ্চায়েত থেকেই করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ