Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আমাকে ভোট দে...রাস্তা দেব, জল দেব জিতলেই উধাও! মিথ্যা আশ্বাসে বাঁচেন হরিপদরা

আমাকে ভোট দে...রাস্তা দেব, জল দেব জিতলেই উধাও! মিথ্যা আশ্বাসে বাঁচেন হরিপদরা
  • ৪ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: ‘আমাদের গ্রামে সরকার আসে না!’ কথাগুলো বলতে বলতে রাগে মুখটা লাল হয়ে উঠছিল হরিপদ সোরেনের। হরিপদর বয়স প্রায় ৭৫ বছর। এখনও বেশ শক্তপোক্ত, পরিশ্রমী। জীবনে বহু উত্থান পতনদেখেছেন। চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন কতকিছুই। বদলায়নিশুধু তাঁদের পাহাড়ীটোলার ছবিখানা! গ্রামের ঢোকার কোনও রাস্তাই তৈরি হয়নি আজও। দুর্গম পাথুরে পাহাড়ী পথ বেয়ে প্রবেশ করতে হয় গ্রামে।মেলে না পরিস্রুত পানীয় জল। কুয়োর ঘোলাজলেই তেষ্টা মেটে বাসিন্দাদের। 
Advertisement
ঝালদা-২ ব্লকের বেগুনকোদর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একমাত্র আদিবাসী গ্রাম মামুডি। মোট সাতটা পাহাড়ী টোলা নিয়ে এই গ্রাম। দু’-একটি বাদ দিলে অধিকাংশ টোলার বাসিন্দাই চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রকট পানীয় জলের সমস্যা। তবে, মামুডির কালিগাড়া টোলায় শুধু পানীয় জলের সমস্যাই নয়, গ্রামে ঢোকার ন্যূনতম রাস্তাটুকুও তৈরি হয়নি আজও। পাহাড়ী বন, দুর্গম উঁচুনিচু রাস্তা ভেঙে যেতে হয় গ্রামে। রাস্তা এতই কঠিন, শুধুমাত্র ভোটের সময় ছাড়া বাকি সময়ে বাইরের লোক গ্রামে আসে না বললেই চলে!তাই তো গ্রামে ‘অজানা ব্যক্তি’ ঢুকতে দেখেই কচিকাঁচার দল দে ছুট! বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেন হরিপদ সোরেন। তারপর একে একে উপাসি সোরেন, সনজতি সোরেন, রমণী সোরেনরাও এগিয়ে এলেন। এক ছোট বাচ্চা এগিয়ে দিল একমুঠো শুকনো কুল। গ্রামে রাস্তা হয়নি কেন? প্রশ্ন করতেই রমণীরা বলে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ভোট এলেই নেতারা চলে আসে। বলে ভোট দে। তাহলেই রাস্তা করে দেব। জলের ব্যবস্থা করে দেব। আমরা ভোট দিই। কিন্তু রাস্তা হয়নি আজও।বহুবার বলার পর জলের টিউবওয়েল একটা দিয়েছিল। কিন্তু সেই কলের জল আমাদের ভাগ্যে জোটেনি! খারাপ হয়েই পড়ে রয়েছে।’ হরিপদ বলছিলেন, ‘বাপ ঠাকুরদাদের যেভাবে জল সংগ্রহ করতে দেখেছি, আমরাও আজও সেই কুয়ো থেকেই জল সংগ্রহ করি।’তবে, সেই কুয়ো মোটেই গ্রামের খুব কাছে নয়। কুয়োর জল পেতেওবাসিন্দাদের যেতে হয় গ্রাম থেকে প্রায় হাফ কিলোমিটার নীচে। সেখানেই কুয়োর ঘোলা জল সংগ্রহ করেন বাসিন্দারা। তারপর তা হাঁড়ি কিংবা বালতিতে ভরে পাথুরে পথ বেয়ে মাথায় করে নিয়ে আসতে হয়। তাই দিয়েই মেটে তেষ্টা। 
তবে, বাসিন্দাদের এমন অবস্থায় থাকার কথা ছিল না। টোলার উপর থেকেই দেখা যায় মুরগুমা ড্যামের অপরূপ সৌন্দর্য। যে মুরগুমার জলে গোটা ঝালদা শহরের তেষ্টা মেটে, সেই জলাশয়ের অদূরে বাস করা সত্ত্বেও কেন বঞ্চিত বাসিন্দারা? তাঁরা চাইছেন, অন্তত পানীয় জলের ব্যবস্থাটুকু হোক। একই পরিস্থিতির শিকার পাথরাডি টোলার বাসিন্দারাও। শুকুরমনি মান্ডি, সাবিত্রী মান্ডিরা বলছিলেন, বোরিং আছে, কল আছে, শুধু জল নেই ।কুয়োর জলই ভরসা। তৃণমূলের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সুরেন মুর্মু বলেন, ‘এলাকায় প্রবল জলের সমস্যা আছে। গ্রীষ্মে সমস্যা আরও বাড়বে। বিষয়টি পঞ্চায়েত থেকে ব্লকস্তরে জানানো হয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত বলেন, ‘জেলার প্রত্যেক মানুষ যাতে জল পায়, সেই কাজ চলছে। পাশাপাশি পথশ্রী প্রকল্পে রাস্তা তৈরির বন্দোবস্তও করা হবে।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ