Bartaman Logo
১২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

আমাজন নদীতে    কোনও সেতু নেই কেন? 

ইংল্যান্ডের টেমস নদীর উপর রয়েছে একটি বিখ্যাত সেতু। ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ। কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ঘুমন্ত লন্ডন শহরকে দেখতেন সেই ব্রিজের উপর থেকে।

আমাজন নদীতে    কোনও সেতু নেই কেন? 
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ইংল্যান্ডের টেমস নদীর উপর রয়েছে একটি বিখ্যাত সেতু। ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ। কবি উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ ঘুমন্ত লন্ডন শহরকে দেখতেন সেই ব্রিজের উপর থেকে। তন্দ্রাচ্ছন্ন লন্ডনের সেই মায়াবী রূপ দেখে অভিভূত হয়ে যেতেন এই ইংরেজ কবি। সঙ্গে দেখতেন আপন বেগে বয়ে চলা টেমস নদীকে। শান্ত, সুন্দর। পৃথিবীজুড়ে ছোট-বড় বহু নদীর গতিপথকে রুদ্ধ করে গড়ে উঠেছে এমন সব সেতু। যার মাধ্যমে এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করে মানুষ, যানবাহন। সেতু মানে সংযোগ। যোগাযোগ রক্ষা হয় দু’টি শহর তথা জায়গার মধ্যে। যেমন আমাদের কলকাতা আর হাওড়া শহরকে জুড়ে রেখেছে রবীন্দ্র সেতু। সবাই যাকে চেনে হাওড়া ব্রিজ নামে। ব্রিটিশ আমলে এই ক্যান্টিলিভার ব্রিজটি তৈরি হয়। পরবর্তীকালে হাওড়া ব্রিজের পাশে হুগলি নদীর উপর গড়ে ওঠে বিদ্যাসাগর সেতু। যার ডাকনাম দ্বিতীয় হুগলি সেতু। তেমনই রয়েছে বিবেকানন্দ সেতু, ভগিনী নিবেদিতা সেতু। বিশ্বের দীর্ঘতম নীল নদের উপরও রয়েছে ফ্রিডম ব্রিজ, সিক্সথ অক্টোবর ব্রিজের মতো বেশ কয়েকটি সেতু। তবে, আশ্চর্যের বিষয় আমাজন নদীর উপর কোনও সেতু নেই! আমাজন পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। তাহলে তার উপর কোনও ব্রিজ গড়ে ওঠেনি কেন?
Advertisement
এর প্রথম কারণ ৬ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ আমাজন নদীর অস্থির চলন ও জলপ্রবাহ। দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়ার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে এই নদী। প্রধানত জুন থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এখানে থাকে বর্ষাকাল। নদীর স্বাভাবিক প্রস্থ বর্ষায় অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। যেমন জানুয়ারিতে নদীর যা প্রস্থ থাকে, বর্ষায় সেই প্রস্থ দশগুণ বেড়ে যায়। দু’কূল ভাসিয়ে চওড়া হয়ে ওঠে নদী। বেড়ে যায় জলের গতিবেগও। এই পরিস্থিতিতে আমাজন নদীর উপর সেতু তৈরির চিন্তাও বোধহয় কেউ করেননি! কারণ বর্ষায় তা কাজেই লাগবে না। আমাজনের পার্শ্ববর্তী এলাকার মাটিও অত্যন্ত নরম। সেখানে কোনওভাবেই সেতুর পরিকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব হয় না। আবার নদীর জলস্তরের হ্রাস-বৃদ্ধিও অনিয়ন্ত্রিত। এই এলাকায় গভীর, পোক্ত ভিত্তি স্থাপন করা যেমন ব্যয়সাপেক্ষ, তেমনই সময়সাপেক্ষ। নদী উপত্যকাও সেতু তৈরির জন্য উপযুক্ত নয়। 
ব্রিজ বা সেতুর মূলত প্রয়োজন পড়ে যাতায়াতের জন্য। আমাজনের দু’পাড়ে বড় শহর বা ঘন জনবসতি নেই। বরং ঘন জঙ্গলে ঢাকা রয়েছে এই নদী। আবার, আমাজন উপকূলের যে সমস্ত এলাকায় মোটামুটি জনবসতি দেখা যায়, সেখানে নদী পারাপারের জন্য ফেরির ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ব্রিজের প্রয়োজন পড়ে না। 
আমাজন প্রবাহিত হয়েছে ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত বিশ্বের বৃহত্তম রেন ফরেস্টের মধ্যে দিয়ে। কয়েক লক্ষ প্রাণী ও গাছপালার ঠিকানা ‘পৃথিবীর ফুসফুস’-এ। লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার বশবর্তী হয়ে এখানে অরণ্য ধ্বংস করে চলছে নগরায়ণ। যার কুপ্রভাব সরাসরি পড়ছে বিশ্বের জলবায়ুতে। কয়েক বছর আগে আমাজনের জঙ্গলের বিস্তীর্ণ অংশ দাবানলে পুড়ে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলে আরও বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে। সেতু ও রাস্তা তৈরি করতে গেলে প্রচুর গাছ কাটতে হবে। যা আমাজনের জীববৈচিত্র্যের জন্য মোটেও ভালো কাজ হবে না। এ কারণেই আমাজন নদীর উপর দিয়ে সেতু তৈরির চিন্তা করা হয় না।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ