Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বঙ্গ বিজেপিতে পুরানো পদেই বহাল অমিতাভ, সতীশ ধোন্দকে পাঠানো হল অন্য রাজ্যে

বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল সংঘ পরিবার এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

বঙ্গ বিজেপিতে পুরানো পদেই বহাল অমিতাভ, সতীশ ধোন্দকে পাঠানো হল অন্য রাজ্যে
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল সংঘ পরিবার এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোয় আমিষ-নিরামিষ বিতর্ক থেকে বার্তা দিয়েছে সংঘ পরিবার বলে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। দল এবং সরকার উভয় পক্ষকেই সংঘ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এটা বাংলার পুজো, বাঙালির পুজো, সেটা মাথায় রাখতে হবে। ঠিক যেভাবে বাংলার মানুষ এতদিন পুজোয় আনন্দ করেছে, ঠিক তেমন ভাবেই যেন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

Advertisement

অন্যদিকে, এদিন সকালেই রাজ্যে রাজ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে বড়োসড়ো পরিবর্তন করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। যদিও বাংলায় রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে বহাল রাখা হয়েছে অমিতাভ চক্রবর্তীকেই। এতদিন ওই পদে যুগ্ম দায়িত্বে থাকা সতীশ ধোন্দকে অন্য রাজ্যের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে সৌদান সিংকে। 
বুধবারই বাংলা সহ একাধিক রাজ্যে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত সহনেতা পরিবর্তন করেছে বিজেপি। এবার সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে এহেন পরিবর্তনকে লক্ষণীয় বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সংঘ পরিবারের প্রচারকরাই বিজেপির এই পদের দায়িত্বে থাকেন। জানা যাচ্ছে, এদিন রাতের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছিলেন বিজেপির অন্যতম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলও। এদিনের বৈঠকে বাংলার দলীয় নেতাদের ‘ক্লাস’ নিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) বিএল সন্তোষ। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি ,  বৈঠকে বারবার রাজ্য নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, দল এবং সরকারের মধ্যে যাতে কোনোরকম সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত না হয়। কারণ আগামী মাসেই রাজ্যের দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। রয়েছে রাজ্যসভার ভোট। এরপর পুজো মিটলেই কলকাতা এবং হাওড়া পুরভোটের ঢাকে কাঠি পড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে রাজ্যের শাসক দল এবং সরকারের মধ্যে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং তা প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে তা দলের পক্ষে অত্যন্ত বিড়ম্বনার বিষয় হবে। এমনকি বিজেপির ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সেই ভূমিকার কথাও পদ্মশিবিরের নেতাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন বিএল সন্তোষ। অর্থাৎ, শাসক দলে পরিণত হওয়ার পর বিজেপির এখন আর বিরোধীদের মতো আচরণ করলে চলবে না। বরং আরও দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রধানত সেটিই মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতাদের। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির ১১, অশোকা রোডে বিজেপির পুরনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন পদ্মশিবিরের শীর্ষ নেতারা। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বৈঠকে প্রসঙ্গক্রমে উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গও। এবিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে ‘সেফ গার্ড’ দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে বৈঠকে।
এদিকে, এদিন একই বিমানে দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরলেন শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে ঠিক ছিল, শমীক আজ, শুক্রবার শহরে ফিরবেন। সেইমতো টিকিটও কাটা হয়েছিল। দলীয় সূত্রে খবর,  শুভেন্দু নিজেই শমীককে বলেন, আলাদা নয়, দু’জনে একসঙ্গেই বৈঠক সেরে ফিরে যাবেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যের শাসক দল এবং সরকারের মধ্যে যে কোনো মতান্তর নেই, সেই বার্তা দিতেই এমন পদক্ষেপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ