সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: রাহুলের দরজায় রিজিজু! ককরোচদের আন্দোলন, বাঁকিপুরে বিপাকে, দাতিয়ায় দম্ভের দফারফা....সব মিলিয়ে প্রবল চাপে কোণঠাসা বিজেপি সরকার। গত ১৩ দিন হয়ে গেল সংসদও অচল। আলোচনা ছাড়াই দু-চার মিনিটে সরকারি সাধারণ বিল পাশ করে নিলেও আটকে গিয়েছে এলাকা পুনবিন্যাসের উদ্যোগ। ডিলিমিটেশনের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে প্রয়োজন স্পেশাল মেজোরিটি। অর্থাৎ সভার মোট আসন সংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সঙ্গে বিল পাশের সময় সভায় উপস্থিত সদস্য সংখ্যা এবং ভোটদানে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। অঙ্কটি লোকসভার ক্ষেত্রে যা ৩৬২। রাজ্যসভায় ১৬৪। যা সরকারের কাছে নেই। গত ১৭ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে উল্লেখিত দুই বিল পেশ করে হাড়ে হাড়ে তা টের পেয়েছিল মোদি সরকার। একাট্টা বিরোধীরা হারিয়ে দিয়েছিল। আলোচনা শেষে ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছিল ২৯৮ ভোট। বিপক্ষে ৩০। তাই হার মানতেই হয়েছিল সরকারকে।
এদিন সংসদ ভবনে লোকসভার বিরোধী দলনেতার অফিসে যান সংসদ বিষয়কমন্ত্রী। বোঝান, কেন আসন পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্যে বিরোধীদের সমর্থন একান্তই প্রয়োজন। দরকারে সব রাজ্যেই লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর কথা নতুন বিলে উল্লেখ করা থাকবে। ফলে সমর্থন করুন। রাহুল-রিজিজুর বৈঠকে ছিলেন প্রিয়াঙ্কাও। উল্লেখিত বিল ছাড়াও লাগাতার সংসদ অচল করার রাস্তা থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণভাবে সংসদ চলতে দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন রিজিজু। এফসিআরএ বিলও পাশ করাতে চায় সরকার।
যদিও রিজিজুর উদ্যোগ সফল হয়নি। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকেও রাহুলের অবস্থান টলাতে পারেননি রিজিজু। রাহুল জানিয়ে দিয়েছেন, এ ব্যাপারে বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত। তবে সবার আগে অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতেই হবে। ছাত্র-যুবর ওপর গুলি, পেলেট গান চালানোর কে দিয়েছিল অর্ডার? সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্পষ্ট করতে হবে। আলোচনা করতে হবে রামমন্দিরের প্রণামি চুরির ইস্যুও। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্য, সংসদ কারো রাজদরবার নয়। স্বৈরাচারী শাসনও চলবে না। গণতন্ত্রে সরকারকে সংসদে জবাবদিহি করতেই হবে। রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের মন্তব্য, ডিলিমিটেশন এবং এসসিআরএ, কোনোটিতেই বিরোধীরা সমর্থন দেবে না। আগে সরকার বলুন, কেন সংসদ এড়াচ্ছেন অমিত শাহ? এদিন লোকসভার ওয়েলে নেমে সম্মিলিত বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখায়। সংসদ চত্বরে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ থেকে সংসদের মকরদ্বার পর্যন্ত হয় প্রতিবাদ মিছিল।