সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: দল বাঁচাতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই কতজন আর রইল, জানতে দিনভর হিসাব কষেছেন। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কারা কারা হাত মেলাচ্ছেন, কখনো তা দলের বিশ্বস্তদের দিয়ে সরাসরি ফোন, কখনো সূত্র মারফত লাগাতার জানার চেষ্টা চালিয়েছেন। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে তিনি গেলেন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বাংলোয়। ১০ জনপথে। কর্ণাটক থেকে ফিরে বৈঠকে ছিলেন রাহুল গান্ধীও। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট আরও মজবুত করতেই হবে বলে গান্ধী পরিবারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন মমতা।
তৃণমূলনেত্রী যখন ১০ জনপথে, ওদিকে তখন কলকাতায় হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। সোনিয়া-রাহুলের বৈঠকে সিআইডির হানার কথাও উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, বাংলায় আর গণতন্ত্র, আইনের শাসন বলে কিছু নেই। গোটা দেশেও গণতন্ত্র বিপন্ন। তাই আমাদের ইন্ডিয়া জোটকে রুখে দাঁড়াতেই হবে।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, যেভাবে তৃণমূলের ভাঙন অব্যাহত, সেক্ষেত্রে পুরো দলটিকে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে বাঁচার একটা উপায় হতে পারে। কংগ্রেস মনষ্ক দুই দুঁদে আইনজীবী মমতাকে আকার ইঙ্গিতে এই বার্তা দিয়ে রেখেছেন বলেই জানা গিয়েছে। দলের দ্রুত ভাঙন আটকানো যে মমতার পক্ষে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, তা টের পাচ্ছেন তৃণমূলনেত্রী। নিজের পরিকল্পনা-পরিশ্রমে গড়ে তোলা তৃণমূল হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ও পাচ্ছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। শেষমেশ না দলের প্রতীকই হাতাছাড়া হয়ে যায়!
দিল্লিতে দলীয় অফিস ২০ বি রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোডের বাংলোও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা করছে তৃণমূল। কারণ, বাংলোটি বিক্ষুব্ধ সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নামে বরাদ্দ। বিক্ষুব্ধদের নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদারকে মমতা-ঘনিষ্ঠ রাজ্যসভার এক সাংসদ ফোন করেছিলেন বলেই বিশ্বস্ত সূত্রে খবর। যদিও কোনো লাভ হয়নি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ইউসুফ পাঠানকে ফোন করে জানতে চান অবস্থান। জবাবে প্রাক্তন ক্রিকেটারের স্ট্রোক, ‘অমিত (শাহ) ভাই মুঝে বুলায়া। বাকি কুছ পাতা নেহি।’
এদিকে, বিদ্রোহী পাল্লা ভারী হচ্ছে বলেই বিক্ষুব্ধদের শিবিরের দাবি। ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ বিক্ষুব্ধ তালিকায় নাম লেখাতে সই করেছেন বলেই জানা গিয়েছে। যদিও ‘দল বিরোধী আইনে’র কোপে সাংসদ পদ খোয়ানো আটকাতে লোকসভায় ২৮ জন সাংসদের মধ্যে কমপক্ষে যে ১৯ জন দরকার, তা এখনো হয়নি। তাই মালা রায়, সাজদা আহমেদ, প্রতিমা মণ্ডল, সায়নী ঘোষদের শামিল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। যদিও প্রতিমা মণ্ডল এই প্রতিবেদককে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। যে প্রতীকে জিতেছি, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি।’
সাজদা আহমেদকে বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার চাপ দিলেও তিনি অনড়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায়রাও নতুনে নাম লেখাচ্ছেন না। তারই মধ্যে আবার মঙ্গলবার কলকাতায় ‘কাহানি মে টুইস্ট’ দিয়েছেন দীপক অধিকারী (দেব)। এই অভিনেতা-নেতা সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাংলোয় বিক্ষুব্ধ তৃণমূলিদের বৈঠকে ছিলেন। চিঠিতে সইও করেছেন। মঙ্গলবার কোলঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগও দেন। তারপরই মিডিয়াকে বলেন, ‘আমি নতুন তৃণমূলে যাচ্ছি না। দিদির সঙ্গেই আছি।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কীর্তি আজাদও দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিক্ষুব্ধদের চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। বলেছেন, ‘হিম্মত থাকলে ২০-২২ যা দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের সই করা চিঠি প্রকাশ করুন কাকলিরা। আর যদি গদ্দারি করতেই হয়, তাহলে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে দেখান।’