সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: বিজেপির অতি প্রভাবশালী নেত্রী তিনি। রাজ্য রাজনীতির পরিচিত মুখ। পাশাপাশি আসানসোল দক্ষিণের পাঁচ বছরের বিধায়ক। এবারও তাঁর উপরই ভরসা রেখেছেন অমিত-নীতিনরা। প্রচারে যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই অভিযোগ ও দাবির শেষ নেই। তাঁকে ঘিরে কোথাও বিক্ষোভ। কোথাও শুনতে হয়েছে বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার নালিশ। সবকিছু সামাল দিচ্ছেন এই বলে—‘বদল করলেই সব সমাধান।’ তাতেও প্রচার অভিযানে হোঁচট খাওয়া কমছেই না।
শুক্রবার রামনবমী। ভোর থেকেই গেরুয়া পতাকায় সেজে উঠেছে আসানসোলের অলিগলি। সেই রামনবমীতেও প্রচারে ‘ফাঁকি’ নেই অগ্নিমিত্রার। সকাল থেকেই ইসমাইল এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন। পাশ্ববর্তী এলাকাতেই বাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাই এই এলাকার রেজাল্ট দাপুটে বিজেপির নেত্রীর কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। চাষাপাড়ায় শেফালি মাজির দরজায় কড়া নাড়তেই তিনি বেরিয়ে এলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে ছবিও তুললেন। কিছুটা এগিয়ে যেতেই রাস্তার পাশেই বসেছিলেন হরিপদ বাউরি। হরিপদবাবু বলেন, সব নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দিয়েছে। কিছুটা রুষ্ট হয়েই অগ্নিমিত্রা কর্মীদের বলেন, এখনও কেন ওঁর নাম তোলার জন্য তোমরা আবেদন করাওনি। এই এলাকায় আগেও একবার প্রচারে এসেছিলেন স্থানীয় বিধায়ক। তখনও স্থানীয় নেতৃত্বকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে গিয়েছিলেন রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি। রাস্তার উপরেই বাড়ি দীনবন্ধু মণ্ডলের। পরিবার নিয়ে বিদায়ী বিধায়কের আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। অগ্নিমিত্রা আসতেই দীনবন্ধুবাবু বলেন, ছেলে তৃষানকে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিতে হবে। আপনাদের তো কোটা থাকে। প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলার পর তিনি বলেন, দিদি বলেছেন এখন তো কোটা নেই। তবে রাজ্যে বদল হোক। পরে তিনি বিষয়টি দেখবেন।
বাউরি পাড়া ঢুকতেই সোমা দাস, হীরা বাউরিরা ঘিরে ধরেন প্রার্থীকে। তাঁরা বলেন, আমাদের পাকা বাড়ি করে দাও। এই বাড়িতে থাকা যায়! ট্যাপ কলটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। কাউন্সিলারকে বার বার বলার পরও ট্যাপ ঠিক করছে না। অগ্নিমিত্রা আরও এগিয়ে গেলেন। এবার কার্যত তাঁর প্রচারে সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন বিজয় বাউরি সহ আরও কয়েকজন। তাঁরা বলেন, আমাদের খুব লজ্জা লাগছে। বাড়ির বড় মেয়েদের খোলা জায়গায় শৌচ করতে হচ্ছে। কাউন্সিলার কিছু করেনি। একটা কমিউনিটি টয়লেট এক্ষুনি করে দাও। নেত্রী বললেন, তোমরা একজোট হয়ে সরকার বদল কর। বিজয় বলেন, একটা শৌচালয় কী করতে পারেন না বিধায়ক। অগ্নিমিত্রার তৃণমূলের কাউন্সিলারদের ব্যর্থতাই বিজেপি প্রার্থীর অক্সিজেন। কিন্তু দলের অভ্যন্তরে কতটা অক্সিজেন পাচ্ছেন অগ্নিমিত্রা, প্রশ্ন উঠছে তাঁর দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন দেখে। তিনি যখন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করছেন তাঁর মাথায় উপর ঠান্ডা পানীয়র বিজ্ঞাপন। তাঁর এক বিশ্বস্ত অনুগামী দ্রুত দিদির হোর্ডিং ঢুকিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি অস্বস্তি রক্ষা করল। রাজ্য বিজেপির প্রথম সারির নেত্রী হয়েও তাঁকেই যেন জুতো পালিশ থেকে চণ্ডীপাঠ, সবই করতে হচ্ছে। থমকে না গিয়ে নেত্রী গেলেন বীর রামমোহন অ্যাভিনিউয়ের বাসন্তী পুজোর মণ্ডপে। মহিলাদের কানে কানে বললেন, চুপ চাপ কমলে ছাপ। তৃণমূল কংগ্রেসের বার্নপুর শহর সভাপতি পূর্ণেন্দু চৌধুরী বলেন, এবার ভোটে অগ্নিমিত্রাকে জবাব দিতে হবে পাঁচ বছরে উনি কী করেছেন। রামনবমীর মিছিলে আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল।-নিজস্ব চিত্র