ইসলামাবাদ: ‘ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে দেশে দেশে ঘুরতে লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায়।’ দেশের ‘দেউলিয়া’ দশা নিয়ে সম্প্রতি এভাবেই অক্ষেপ করতে দেখা গিয়েছিল স্বয়ং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে। তার রেশ এখনও কাটেনি। এবার বিদেশনীতির ব্যর্থতা ও সন্ত্রাস ইস্যুতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি সামনে এল। খাস পাক পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অতীত অভিজ্ঞতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন তিনি। আসিফের অভিযোগ, আমেরিকা তাদের নিজেদের কৌশলগত স্বার্থরক্ষায় পাকিস্তানকে শোষণ করেছে। প্রয়োজন ফুরোনোর পর ইসলামাবাদকে ‘টয়লেট পেপারের থেকেও খারাপভাবে’ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে ওয়াশিংটন।
পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য রাখার সময় সন্ত্রাসবাদ ও দেশের অতীত সম্পর্কে অকপট স্বীকারোক্তি করেছেন আসিফ। কোনো রাখঢাক না করেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের দুই প্রাক্তন সামরিক একনায়ক (জিয়া-উল-হক ও পারভেজ মোশারফ) আফগানিস্তানে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। ইসলামের জন্য নয়, বরং এক মহাশক্তিধর দেশকে (আমেরিকা) তোয়াজ করার লক্ষ্যে ছিল সেই সিদ্ধান্ত। আমরা আমাদের ইতিহাসকে অস্বীকার করি, ভুলও স্বীকার করি না। অতীতের একনায়কদের ভুলের কারণেই সন্ত্রাসবাদের কুফল হজম করতে হচ্ছে। এই বিশাল ক্ষতির বোঝা অপূরণীয়।’
পাক পার্লামেন্টে আসিফ বলেন, ১৯৯৯ সালের পর, বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে) হামলার পর ফের আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলানোর ভয়াবহ ফল ভুগতে হয়েছিল আমাদের। পাকিস্তানকে ব্যবহারের পর টয়লেট পেপারের থেকেও খারাপভাবে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ২০০১ সালের পর আমেরিকার নেতৃত্বে আফগানিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তান যোগ দেওয়ায় তালিবানের বিরাগভাজন হতে হয় আমাদের। কিন্তু আমেরিকা সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পর দীর্ঘ হিংসা, মৌলবাদ ও আর্থিক বোঝার মুখে পড়তে হয় পাকিস্তানকে।
ঘটনাচক্রে, অপারেশন সিন্দুরের আবহেও আমেরিকা তথা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তুষ্ট করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছিল পাকিস্তান। ভারত অস্বীকার করলেও পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের সুরেই সুর মিলিয়েছিলেন। যুদ্ধ থামানো নিয়ে ট্রাম্পের দাবিকেই মান্যতা দিয়েছিলেন তিনি। তার পরপরই পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিফ মুনির আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন খাস হোয়াইট হাউসে। তাহলে কি সেই ‘মধুচন্দ্রিমা’য় ছেদ পড়ল? খোয়াজা আসিফের মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এবিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কোনও বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি।