Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এবার শুল্ক-যুদ্ধে নামল আমেরিকা

গ্রিনল্যান্ড চাই! ছলে-বলে-কৌশলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এবার শুল্ক-যুদ্ধে নামল আমেরিকা
  • ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: গ্রিনল্যান্ড চাই! ছলে-বলে-কৌশলে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ঘেরা বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পথে ‘বাধা’ হয়ে দাঁড়ানোয় এবার ইউরোপের আটটি দেশের উপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন তিনি। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের উপর নয়া শুল্কহার চালু হবে। এই ঘোষণার পরই ফের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সুর চড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, দ্রুত গ্রিনল্যান্ড ক্রয় সম্পূর্ণ করতে চায় আমেরিকা। সেইমতো চুক্তি সম্পন্ন না হলে আগামী ১ জুন থেকে বাড়তি আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। ট্রাম্প আগেই বলেছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতেই ‘খনিজ সম্পদে পূর্ণ’ গ্রিনল্যান্ড তাঁর চাইই। ট্রাম্পের দাবি ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। তাতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। এরমধ্যে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং ট্রাম্পের সহযোগী স্টিফেন মিলার জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার আয়তনের একচতুর্থাংশ। ডেনমার্ক অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি দেশ। তাদের সেনা-অর্থনীতি সবই খুব ছোট। এই ক্ষমতা দিয়ে তারা গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না। আমেরিকার দাবি, চীন এবং রাশিয়ারও নজর রয়েছে এই ভূখণ্ডের দিকে। তাই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন সরকার একে হাতে নিতে চায়।

Advertisement

এরমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বেজায় ক্ষুব্ধ ইউরোপের দেশগুলি। এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘ভুল’ বলে তোগ দেগেছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। সরব হয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রও। বলেছেন, চাপের মুখে নতিস্বীকারের কোনও প্রশ্নই নেই। ইউরোপ যৌথভাবে এর জবাব দেবে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের নেতৃত্বে যৌথ সামরিক মহড়াকেও সমর্থন করেছেন তিনি। ফ্রান্সের কৃষিমন্ত্রী অ্যানি গেনেভার্ড রবিবার জানিয়েছেন, নয়া শুল্ক জারি হলে ট্রাম্পকেও অনেক কিছু হারাতে হবে। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন হুমকির সুরে বলেছেন, এভাবে ব্ল্যাকমেল করে লাভ হবে না। আমরা আলোচনা করছি। যৌথভাবে পদক্ষেপ নেব। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছেন ডেনমার্কের বিদেশমন্ত্রীও। নয়া মার্কিন শুল্ক যুদ্ধের আঁচ পড়তে চলেছে আমেরিকা-ইউরোপ বাণিজ্যচুক্তিতেও। গত জুলাই মাসে চুক্তিতে সই করেছিলেন ট্রাম্প ও ইউরোপীয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট আপাতত ওই চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করেছে। সেইসঙ্গে পালটা পদক্ষেপেরও বার্তা দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, এই ইস্যুতে গ্রিনল্যান্ডের মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে ইউরোপের ৮টি দেশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ