সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সুরক্ষিত হাসপাতাল চত্বর থেকেই স্রেফ গায়েব হয়ে গেল আস্ত একটি অ্যাম্বুলেন্স! মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি নজরে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে। যেখানে রাতদিন নিরাপত্তাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত, সেখান থেকে একটি জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী গাড়ি কীভাবে চুরি হয়ে গেল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার জেরে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন গাড়ির মালিক ও চালক। খবর পেয়ে ঘটনার তদন্তে নেমেছে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চুরি যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সটির মালকিন রঘুনাথগঞ্জের দরবেশপাড়ার বাসিন্দা ফরিদা বিবি। প্রতিদিনের মতোই সোমবার রাতে ফরিদা বিবির স্বামী আরসাদ শেখ সাদা রঙের অ্যাম্বুলেন্সটি চালিয়ে এনে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর গাড়িটি যথারীতি লক করে তিনি নিজের বাড়িতে চলে যান। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে এসে তিনি দেখেন, যেখানে গাড়িটি রেখে গিয়েছিলেন, সেখানে সেটি নেই! প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো অন্য কোনো চালক বা পরিচিত কেউ প্রয়োজনে গাড়িটি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু হাসপাতাল চত্বর ও আশেপাশের সমস্ত এলাকা চষে ফেলার পরও অ্যাম্বুলেন্সটির কোনো হদিস মেলেনি। শেষমেশ স্পষ্ট হয়ে যায়, রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা গাড়িটি চুরি করে চম্পট দিয়েছে। হাসপাতালের সিসিক্যামেরায় সেই দৃশ্য ধরাও পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও হাসপাতাল চত্বরের গ্যারেজ ও আশেপাশের এলাকা থেকে একাধিক বাইক ও সাইকেল সহ রোগীর টাকা জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতাল চত্বরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত জায়গা থেকে খোদ অ্যাম্বুলেন্স চুরির ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আঙুল তুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগী থেকে শুরু করে সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
ঘটনার পর অ্যাম্বুল্যান্সটির মালকিন ফরিদা বিবি রঘুনাথগঞ্জ থানার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরের ও বাইরের রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে হাসপাতাল চত্বরের মতো সুরক্ষিত এলাকা থেকে এইভাবে আস্ত একটি অ্যাম্বুল্যান্স উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও নানারকম গুঞ্জন শুরু হয়েছে।