নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীকে রেফার করা হয়েছিল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক কার্যত জোর করেই মেডিক্যালের পরিবর্তে রোগীকে নিয়ে গেলেন ইংলিশবাজার শহরের একটি নার্সিংহোমে। অভিযোগ, চিকিৎসা না করেই দু’দিনে এক লক্ষ টাকা বিল করেছে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়,রোগীর স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ তা নিতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নজরে আসতেই নার্সিংহোম থেকে রোগীকে সরিয়ে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ নজরদারি দল। অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স চালককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলেও খবর প্রশাসন সূত্রে।
মালদহের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি বলেন, রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই ধরনের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে হেয়ারিংয়ের এর জন্য ডাকা হচ্ছে।
গাজোলের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগছেন। ১৭ মার্চে রাতে হঠাৎ তাঁর সমস্যা বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। রাতেই পরিবারের সদস্যরা রোগীকে নিয়ে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্স চালক তাঁদের মেডিক্যালের পরিবর্তে ভুল বুঝিয়ে ইংলিশবাজার শহরের একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যায়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,ওই নার্সিংহোমের আইসিইউতে রোগীকে ভর্তি করা হলেও তাঁর চিকিৎসাই সেখানে হয়নি। এদিন সকালে একটি বিশেষ সূত্রে অভিযোগ পেয়ে সেখানে হানা দেয় জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ নজরদারি দল। আধিকারিকরা নার্সিংহোমে গিয়ে দেখেন গত দু’দিনের হওয়া এক লক্ষ টাকা বিল না মেটানোয় রোগীকে ছাড়া হচ্ছে না। পরিবারের লোকেরা অভিযোগ করেন, তাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ নিতে অস্বীকার করে এবং এক লক্ষ টাকা বিল করে।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক আরও বলেন, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নেয়নি সেটা সম্পূর্ণ আলাদা এবং গুরুতর অভিযোগ। যা নিয়ে জেলার বিশেষ নজরদারি দল নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রোগীর সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না হওয়ার পরও লক্ষাধিক টাকা বিল করার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নার্সিংহোমের আইসিইউতে কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ নেই। আইসিইউ বলতে শুধুমাত্র একটি এসি ঘর এবং অক্সিজেনের নামমাত্র ব্যবস্থা রয়েছে।
একই সঙ্গে এদিন ইংলিশবাজার শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিল করল বিশেষ নজরদারি দল। ওই সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা টেকনিশিয়ান এবং বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সেন্টারটি চালাচ্ছিল।