Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অবশেষে ক্রিকেট দেবতার আশীর্বাদ পেলেন অমল

আরব সাগরের পাড়ে বিশ্বজয়ের জোয়ারে প্লাবিত আসমুদ্রহিমাচল। ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের প্রতিটা কোণায় অনুরণিত হচ্ছে দীপ্তি, রিচা, জেমাইমাদের নামে জয়ধ্বনি।

অবশেষে ক্রিকেট দেবতার আশীর্বাদ পেলেন অমল
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই: আরব সাগরের পাড়ে বিশ্বজয়ের জোয়ারে প্লাবিত আসমুদ্রহিমাচল। ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামের প্রতিটা কোণায় অনুরণিত হচ্ছে দীপ্তি, রিচা, জেমাইমাদের নামে জয়ধ্বনি। এমন সময় তেরঙ্গা হাতে ড্রেসিং-রুম থেকে গুটিগুটি পায়ে মাঠে এসে দাঁড়ালেন বিশ্বজয়ীদের গুরু। মুখে মিষ্টি হাসি, চোখের চাউনিতে অসীম তৃপ্তি। অপলক দৃষ্টিতে উপভোগ করলেন শিষ্যাদের বাঁধনছাড়া সেলিব্রেশন। তারপর অদ্ভুত উদাসীনতায় কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন মহাশূন্যে। অমল মুজুমদার যেন ফিরে গেলেন নিজের ক্রিকেট জীবনের অপূর্ণ স্বপ্নের ময়নাতদন্তে! মুচকি হাসিতে দ্রুত সুইচওভার করলেন বিশ্বজয়ের মঞ্চে।

Advertisement

বিষয়টি নজর এড়ায়নি ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীতের। দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন কোচের দুই পা। প্রায় অর্ধশতাব্দীর প্রতীক্ষার অবসানে অমল মুজুমদারের অবদানের কথা হরমনপ্রীতের চেয়ে ভালো আর কেই বা জানেন! সত্যিই দিনটা যে অমল আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার। প্রিয় ছাত্রীকে পরম স্নেহে বুকে টেনে নিলেন তিনি। বললেন, ‘তোমরা পেরেছ। ওয়েলডান ক্যাপ্টেন!’ গোটা দলের মতো স্বপ্নের ঘোরে তিনিও। টিভি ক্যামেরার সামনে অকপটে স্বীকারও করলেন সেকথা, ‘এখনও বুঝতে পারছি না, ঠিক কী হল। শুধু এটুকু উপলব্ধি করছি যে, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আর চারপাশে অনেক কিছু ঘটে চলেছে।’
প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অমল। ঘরোয়া ক্রিকেটে নামের পাশে ১১ হাজারের বেশি রান। তবু তারকাদের ভিড়ে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ওঠেনি তাঁর। শচীন, কাম্বলির মতোই রমাকান্ত আচরেকরের ছাত্র হয়েও পিছনে পড়ে গিয়েছেন নিয়তির খেলায়। তা নিয়ে আজও তুফান তোলা আক্ষেপ ভেসে বেড়ায় মুম্বইয়ের নুক্করে। খোদ অমল অবশ্য নির্বকার। বরং কোচিং জীবনে মনোনিবেশ করেন খেলোয়াড়ি জীবনের অপ্রাপ্তি পূরণের আশায়। এবার আর বিমুখ হননি ক্রিকেট ঈশ্বর। রবিবার ভারতের মহিলা দলের কোচকে সুদে আসলে মিটিয়ে দিলেন তাঁর প্রাপ্য সম্মান।
রাশভারী, কিন্তু একরোখা নন। ড্রেসিং রুমে নিজের ক্রিকেট জ্ঞান ফলানোর থেকেও বেশি আস্থা রাখেন খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও বিশ্বাসে। আর সেটাই কোচ অমলকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। লিগ পর্বে হারের হ্যাটট্রিকের পর সমালোচকরা আঙুল তুলেছিলেন তাঁর দিকে। কোচ অবশ্য তাতে বিচলিত হননি। বরং দীপ্তিদের সাহস জুগিয়ে বলেছিলেন, ‘নিজেদের উপর আস্থা হারিও না। তোমরা পারবে।’
পেরেছেন হরমনপ্রীতরা। তাঁরা শুধু বিশ্বকাপই জেতেননি, বরাবরের উপেক্ষিত গুরুকে বসিয়েছেন তাঁর যোগ্য আসনে। আসলে বাস্তবের ঘা খেতে খেতে উঠে আসা অমল কোনও চটকদারিতে বিশ্বাস করেন না। তিনি আস্থা রাখেন করে দেখানোর মন্ত্রে। তাইতো ম্যাচ শেষে কোচের উদ্দেশ্যে হরমনপ্রীতের শ্রদ্ধার্ঘ্য, ‘কোচ স্যার যা বলেন, তা হৃদয় থেকে বলেন। দলের ভিতরে তাঁর প্রভাব নীরব কিন্তু অত্যন্ত গভীর।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ