সন্দীপ নন্দী: ‘আমরা কিছুতেই হারব না। লড়াই চাই। সন্দীপ, আজ নিজেকে উজাড় করে দে।’ কোচ তমাল সেনের কথাগুলো এখনও কানে বাজে। ঘরোয়া লিগে মোহন বাগানের মুখোমুখি আমাদের সোনালি শিবির। ম্যাচের আগে কর্তারা উদ্বিগ্ন। কারণ অমল দত্তের ডায়মন্ড সিস্টেম ঝড় তুলেছে ময়দানে। ৩-৪ গোল কোনও ব্যাপার নয়। কিন্তু দুর্ধর্ষ মোহন বাগানের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করে সোনালি শিবির। শেষ মুহূর্তে চিমার কাছে হার মানলেও এই ম্যাচই আমার কেরিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। অমলদার মতো বিদগ্ধ কোচের প্রশংসা আদায় করা সত্যিই সৌভাগ্যের। পাশাপাশি বলতে হবে মোহন বাগানের প্রাণচঞ্চল সমর্থকদের কথাও। মাঠ ছাড়ার আগে অনেকেই আমার পিঠ চাপড়ে দেন। পরের মরশুমেই মোহন বাগানে সই করি। ঘরোয়া লিগ না থাকলে বর্ধমানের সন্দীপ নন্দীকে কেউ চিনত না।
কলকাতা লিগের আবেদনই আলাদা। ডুরান্ড বা রোভার্স খেলার চেয়েও কঠিন। পায়ের নীচে কাদা। মাথার উপর কখনও গনগনে রোদ। ঘাড়ের কাছে দর্শক। হাঁটু কাঁপানো গর্জন। যে কোনও ফুটবলারের কাছে চ্যালেঞ্জ। অথচ আইএসএল শুরুর পর পাল্টে গিয়েছে পরিস্থিতি। ঘরোয়া লিগ অনেকের কাছে ব্রাত্য। এভাবে ফুটবলের উন্নতি অসম্ভব। ভুললে চলবে না মেহতাব, দেবজিৎ, নবি, বাসুদের উত্তরণ কিন্ত লিগ থেকেই। জাতীয় দলেও দাপিয়ে খেলেছে ওরা। এমনকী, ঘরোয়া লিগে বিদেশি বন্ধের সিদ্ধান্তও আমার কাছে বোধগম্য নয়। একটা সময় ব্যারেটো, চিমা, ওডাফার মতো বিদেশিরা ময়দান কাঁপিয়েছে। নামী ফুটবলারদের সঙ্গে টক্কর না দিলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে কী করে? বোঝা উচিত এতে টুর্নামেন্টেরও ক্ষতি। জনপ্রিয়তা কমতে বাধ্য। আসলে উটের মতো বালিতে মুখ গুঁজে থাকলে সাময়িক স্বস্তি মেলে। সমাধান পাওয়া অসম্ভব।